সারাবিশ্ব
ভারতে মহিষের আসল মালিক কে জানতে ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ
ভারতের বিহারের গয়ায় একটি মহিষের মালিকানা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর বিরোধ মেটাতে এবার প্রাণীটির ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। দুই পক্ষই মহিষটির মালিকানা দাবি করায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিষয়টির নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গয়া পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল বিকাশ বৈভব গয়া গ্রামীণের পুলিশ সুপার দিব্যাঞ্জলি জয়সওয়ালকে ঘটনাটি বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বর্তমানে বিতর্কিত মহিষটি উত্তর গ্রামের বাসিন্দা সুরজ যাদবের বাড়িতে রয়েছে। তার দাবি, মহিষটির প্রকৃত মালিক তিনি। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী নৌরঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা প্রকাশ মাঞ্জিও মহিষটিকে নিজের বলে দাবি করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মহিষটির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তার মায়ের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। মহিষটির মা এখনও জীবিত এবং অন্য এক গ্রামবাসীর বাড়িতে রয়েছে। মা ও সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাণীটির বংশপরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হলে মালিকানা বিরোধের তদন্তেও তা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত প্রায় এক সপ্তাহ আগে। সুরজ যাদব অত্রি থানায় অভিযোগ করেন, তার মহিষ চুরি হয়ে গেছে। পরে তদন্তে পুলিশ নৌরঙ্গা গ্রামের প্রকাশ মাঞ্জির বাড়িতে একটি মহিষের সন্ধান পায়। সেটিকে সুরজের কাছে হস্তান্তর করা হলেও প্রকাশ পরে থানায় গিয়ে মহিষটি তার বলে দাবি করেন।
এরপর পুলিশ সুরজের বাড়ি থেকে মহিষটিকে থানায় নিয়ে যায় এবং দুই দিন সেখানে রাখে। থানার ভেতরে মহিষ রাখার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ মহিষটিকে আবার সুরজের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
এদিকে মহিষটির মালিকানা নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছে। প্রকাশ মাঞ্জি সুরজ যাদবের বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি অত্যাচার প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ করেছেন।
বাথানি এলাকার উপপুলিশ সুপার সুরেন্দ্র কুমার জানান, মালিকানা নিয়ে বাদানুবাদের সময় সুরজের বিরুদ্ধে প্রকাশকে জাতিগত বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা করা হয়েছে।
ঘটনাটি পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়েও পৌঁছায়। আরজেডির সাবেক বিধায়ক অজয় যাদব ইন্সপেক্টর জেনারেল বিকাশ বৈভবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি তদন্তের অনুরোধ করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এটি মূলত একটি মহিষের মালিকানা নিয়ে বিরোধ হলেও সুরজের বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি আইনে মামলা হয়েছে।
বিহারে পশু নিয়ে পুলিশের কাছে অস্বাভাবিক অভিযোগ আসার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। প্রায় দুই বছর আগে পূর্ণিয়ায় এক ব্যক্তি একটি ষাঁড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় হাজির হয়েছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, ষাঁড়টি তাকে তাড়া করে শিং দিয়ে আঘাত করেছে। পরে পুলিশ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নিলে অভিযোগটি প্রত্যাহার করা হয়।
তবে গয়ার এই ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে মহিষের মালিকানা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্তের কারণে। পুলিশের আশা, পরীক্ষার ফলাফলে মহিষটির বংশপরিচয় নিশ্চিত হলে মালিকানা নিয়ে চলমান বিরোধেরও নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া