সারাদেশ
সার চুরি ও নষ্টের ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদরের কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান স্ট্যান্ড রিলিজ
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষকদের জন্য সংরক্ষিত সরকারি সার চুরি এবং বৃষ্টির পানিতে ভিজে সার নষ্ট হওয়ার ঘটনায় কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসে ‘অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা’ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
একই অফিস আদেশে যশোরের মনিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমীন শাহানাজকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
গত ২৬ আগষ্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা থেকে বদলি করে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসে ‘অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা’ হিসেবে পদায়ন করা হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সরকারি সারের চালান চুরি ও বিনষ্ট হওয়ার ঘটনা তদন্তে ২৫ আগষ্ট খামারবাড়ি ঢাকা'র হর্টিকালচার উংয়ের পরিচালক মোঃ হযরত আলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে ঘটনাটি তদন্তে কাজ শুরু করেছেন।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবীদ মাসুদুর রহমান সরকারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তদন্ত কার্যকম চলমান। তদন্ত শেষ না হলে এ মুহূর্তে কিছু বলা যাবে না।
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উন্মুক্ত স্থানে কৃষকদের জন্য সংরক্ষিত ৫৩ বস্তা সার দুই দফায় চুরি হয়। এছাড়া বৃষ্টির পানিতে ভিজে আরও অন্তত ২০ বস্তা সার নষ্ট হয়ে যায়।
এতে সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে কৃষি বিভাগের অব্যবস্থাপনা এবং সার নিয়ে কৃষকদের ভোগান্তির চিত্র উঠে আসে। ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।