সারাবিশ্ব
তেলাপোকা মেরে ফেলায় ‘একাকিত্বে’ ভুগছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে একটি তেলাপোকাকে ঘিরে অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সানায়ে তাকাইচি। তেলাপোকাটি নির্মূলের পর স্বস্তি পেলেও সেটি আর না থাকায় কিছুটা একাকিত্ব ও দুঃখ অনুভব করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি বাসভবনে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে এ ঘটনা জানান তাকাইচি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ‘ভূতুড়ে বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত। ১৯৩২ ও ১৯৩৬ সালের দুটি রক্তাক্ত রাজনৈতিক ঘটনার সঙ্গে ভবনটির ইতিহাস জড়িয়ে থাকায় সেখানে ভূতের উপস্থিতি নিয়ে নানা জনশ্রুতি রয়েছে। তবে তাকাইচি জানিয়েছেন, সেখানে তিনি কোনো ভূত দেখেননি। তার অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কারণ ছিল একটি তেলাপোকা।
তাকাইচি জানান, একদিন সরকারি বাসভবনে হঠাৎ একটি তেলাপোকা তার পায়ের পাশ দিয়ে দৌড়ে যায়। এতে তিনি চমকে উঠে চিৎকার করেন। তবে তেলাপোকাটিকে মেরে ফেলতে পারেননি।
এর কারণ হিসেবে শৈশবের একটি অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। ওসামু তেজুকার জনপ্রিয় মাঙ্গা ‘ফিনিক্স’-এ উঠে আসা পুনর্জন্মের ধারণা তার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এ কারণে কোনো প্রাণী হত্যা করতে তার অস্বস্তি হয় বলে জানান তিনি।
তাকাইচির মনে হয়েছিল, তেলাপোকাটিও হয়তো দীর্ঘ পুনর্জন্মচক্রের অংশ। তাই সেটিকে না মেরে নিজে থেকেই চলে যাওয়ার অপেক্ষা করছিলেন তিনি।
কিছুদিন বিষয়টি নিজের মধ্যেই রাখেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। পরে সহযোগীদের জানালে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। একজন সহযোগী বিষয়টিকে অস্বাস্থ্যকর উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
এরপর সরকারি বাসভবনে তেলাপোকা নির্মূলে বিশেষ কীটনাশক অভিযান চালানো হয়। তাকাইচির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানের পর আর তেলাপোকাটির দেখা মেলেনি।
তবে তেলাপোকাটি চলে যাওয়ার ঘটনায় তার অনুভূতি ছিল মিশ্র। একদিকে তিনি স্বস্তি পেয়েছিলেন, অন্যদিকে অপ্রত্যাশিত এই সঙ্গীকে হারিয়ে কিছুটা একাকিত্ব ও দুঃখও অনুভব করেছিলেন।
সরকারি বাসভবনের কথিত ভূতের গল্প নিয়ে করা এক প্রশ্নের সূত্র ধরেই তাকাইচি এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনো ভূত নয়, বরং একটি তেলাপোকাই ছিল সেখানে তার ভয় পাওয়ার বাস্তব কারণ।