সারাদেশ

সিলেটে মোটরসাইকেল চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পুলিশ সদস্য


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

সিলেটে মোটরসাইকেল চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পুলিশ সদস্য
প্রতীকী ছবি

সিলেটের গোলাপগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মুরসালিন নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা ওলিউর ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার হেতিমগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে হেতিমগঞ্জ বাজারে যান মুরসালিন। সেখানে একটি মোটরসাইকেল দেখার পর সেটি চালিয়ে দেখার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে কয়েকজন তার পিছু নেন এবং পরে তাকে আটক করেন। এ সময় মুরসালিন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে মুরসালিনের দাবি, তিনি মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যেই বাজারে গিয়েছিলেন। মোটরসাইকেলটি চালিয়ে দেখার সময় স্থানীয়রা তাকে ভুল বুঝে চোর সন্দেহে আটক করে মারধর করেন।

ঘটনার সময় মুরসালিনের সঙ্গে ওলিউর ইসলাম নামে একজন ছিলেন। তিনি নিজেকে মুরসালিনের দাদা পরিচয় দেন। ওলিউর জানান, মুরসালিন মোটরসাইকেল কিনবেন বলে তাকে সঙ্গে নিয়ে হেতিমগঞ্জ বাজারে আসেন। পরে মুরসালিন মোটরসাইকেল দেখার কথা বলে তাকে রেখে চলে যান। এ সময় স্থানীয়রা তার পরিচয় জানতে চাইলে ভয়ে তিনি মুরসালিনকে চেনেন না বলে জানান।

ঘটনার পর ওলিউর ইসলামকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুরসালিন মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যাওয়ার পর তাদের সন্দেহ হয়। পরে কয়েকজন তার পিছু নিয়ে তাকে আটক করেন। তখন তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুরসালিন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার পর ছুটি শেষ হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মাহফুজুল কবির বলেন, মুরসালিন চলতি মাসের শুরুতে ছুটিতে বাড়ি যান। এরপর থেকে তিনি এখন পর্যন্ত কর্মস্থলে যোগ দেননি।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছবেদ আলী বলেন, মুরসালিন নামের ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেল কেনার জন্য হেতিমগঞ্জ বাজারে এসেছিলেন। মোটরসাইকেল চালিয়ে দেখার সময় সাধারণ মানুষ তাকে চোর সন্দেহে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মুরসালিনের সঙ্গে থাকা ওলিউর ইসলাম নিজেকে তার দাদা পরিচয় দিলেও তার আচরণ স্বাভাবিক ছিল না। তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বলে ওই সূত্রের দাবি।