সারাদেশ

জীবিত থাকতেই নিজের ‘চল্লিশা’ আয়োজন, ৫ হাজার মানুষকে খাওয়ালেন দম্পতি


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৪ পিএম

জীবিত থাকতেই নিজের ‘চল্লিশা’ আয়োজন, ৫ হাজার মানুষকে খাওয়ালেন দম্পতি
ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুর পর নিজের চল্লিশার আয়োজন কে করবেন এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার কৃষক রফিকুল ইসলাম। এক ছেলে বাক্‌প্রতিবন্ধী, অন্য ছেলে সুস্থ হলেও মৃত্যুর পর আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের দাওয়াত করে বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা ছিল তার।

এই ভাবনা থেকেই জীবিত থাকতেই নিজের ও স্ত্রীর চল্লিশার আয়োজন করেছেন ৬২ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম ও তার ৫৫ বছর বয়সী স্ত্রী বেগম আক্তার। শুক্রবার উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে প্রায় পাঁচ হাজার দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করেন তারা। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা।

দুপুরের আগেই শুরু হয় খাবার পরিবেশন। চলে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। বিদ্যালয়ের মাঠে প্যান্ডেল করে একসঙ্গে প্রায় ৪০০ মানুষের বসার ব্যবস্থা করা হয়। খাবারের তালিকায় ছিল গরুর মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, ডাল ও পায়েস। আয়োজনে সহযোগিতাকারীদের পাশাপাশি রফিকুল ইসলাম নিজেও মানুষের পাতে যত্ন করে খাবার তুলে দেন।

রফিকুল ইসলাম জানান, রাস্তার পাশে তার দোকানের জায়গাসহ কিছু জমি সড়ক ও জনপথ বিভাগ অধিগ্রহণ করেছে। এর বিনিময়ে তিনি বেশ কিছু টাকা পেয়েছেন। সেই অর্থ থেকেই প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয় করে নিজের ও স্ত্রীর চল্লিশার আয়োজন করেছেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, জীবিত থাকতেই নিজের চল্লিশা আয়োজন করেছেন এমন ঘটনা আগে কেউ করেছেন কি না, তা তার জানা নেই। তবে মৃত্যুর পর ছেলেরা সবাইকে ঠিকমতো দাওয়াত দিতে পারবে কি না, সেই চিন্তা থেকেই এমন আয়োজন করেছেন তিনি।

জিনারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম রহিদও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, রফিকুল ইসলামের এক ছেলে বাক্‌প্রতিবন্ধী এবং অন্য ছেলে সুস্থ। সম্প্রতি জমি অধিগ্রহণের কারণে তিনি একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা পেয়েছেন। সেই অর্থ থেকেই নিজের ও স্ত্রীর জীবদ্দশায় ব্যতিক্রমী এই আয়োজন করেছেন।

শুক্রবারের এই আয়োজনে বীর হাজীপুর গ্রামের বিপুলসংখ্যক দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ অংশ নেন।