জাতীয়

নতুন বেতন স্কেলে কার মূল বেতন কত হবে, জেনে নিন হিসাবের নিয়ম


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

নতুন বেতন স্কেলে কার মূল বেতন কত হবে, জেনে নিন হিসাবের নিয়ম
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। এতে ২০টি গ্রেডের নতুন বেতনক্রমের পাশাপাশি পুরোনো বেতন থেকে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের নিয়মও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোয় গ্রেডভেদে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা এবং গ্রেড ১ এ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে কোনো গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন বাড়ানো হলেও ওই গ্রেডে থাকা সব কর্মকর্তা কর্মচারীর নতুন মূল বেতন একই হবে না। নতুন স্কেলে কার বেতন কত হবে, তা নির্ধারণ করা হবে বেতন নির্ধারণের বিধান অনুযায়ী।

নতুন বেতন নির্ধারণে যেসব হিসাব লাগবে

একজন চাকরিজীবীর নতুন মূল বেতন নির্ধারণে প্রথমে জানতে হবে ৩০ জুন পর্যন্ত তার মূল বেতন কত ছিল। এরপর তিনি কোন গ্রেডে ছিলেন এবং নতুন বেতন স্কেলে ওই গ্রেডের সংশ্লিষ্ট বেতনক্রম কী, তা দেখতে হবে।

একই গ্রেডে থাকা দুই কর্মকর্তার মূল বেতনও এক নাও হতে পারে। একজন যদি ওই গ্রেডে কয়েক বছর ধরে থেকে একাধিক বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি পেয়ে থাকেন এবং অন্যজন যদি সম্প্রতি ওই গ্রেডে যোগ দেন, তাহলে ৩০ জুন তাদের মূল বেতন ভিন্ন হবে। ফলে নতুন স্কেলেও তাদের বেতন ভিন্ন ধাপে নির্ধারিত হতে পারে।

দুই পদ্ধতিতে নির্ধারণ হবে নতুন বেতন

নতুন প্রজ্ঞাপনে মূলত দুটি পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রথম পদ্ধতিতে, কোনো কর্মচারী যদি বর্তমান বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পান, তাহলে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর অনুরূপ বেতনক্রমের প্রারম্ভিক ধাপেই তার নতুন মূল বেতন নির্ধারণ হবে।

যেমন, ৩০ জুন একজন কর্মচারী ১৬তম গ্রেডের ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেতনক্রমের প্রারম্ভিক ধাপে অর্থাৎ ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পেতেন। নতুন স্কেলে ১৬তম গ্রেডের বেতনক্রম ২১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা হওয়ায় তার নতুন মূল বেতন হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা।

অর্থাৎ পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন থাকলে নতুন স্কেলেও প্রারম্ভিক ধাপেই বেতন নির্ধারিত হবে।

দ্বিতীয় পদ্ধতিতে, কোনো কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন যদি সংশ্লিষ্ট পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে প্রথমে বর্তমান বেতন ও প্রারম্ভিক ধাপের মধ্যকার পার্থক্য বের করতে হবে। এরপর ওই পার্থক্য নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে।

যোগফল নতুন বেতনক্রমের কোনো ধাপের সঙ্গে মিলে গেলে সেই ধাপেই বেতন নির্ধারণ হবে। আর যোগফল যদি কোনো ধাপের সঙ্গে না মেলে, তাহলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

উদাহরণে বুঝুন নতুন বেতন নির্ধারণ

ধরা যাক, ৩০ জুন পর্যন্ত একজন কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধিসহ মূল বেতন ছিল ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা। তার পুরোনো বেতনক্রমের প্রারম্ভিক ধাপ ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা।

তাহলে পুরোনো মূল বেতন ও প্রারম্ভিক বেতনের পার্থক্য হবে ১ হাজার ২৯০ টাকা।

এখন নতুন বেতনক্রমের প্রারম্ভিক ধাপ যদি হয় ২৫ হাজার টাকা, তাহলে এর সঙ্গে ১ হাজার ২৯০ টাকা যোগ করতে হবে।

২৫ হাজার টাকা ও ১ হাজার ২৯০ টাকা যোগ করলে হয় ২৬ হাজার ২৯০ টাকা।

কিন্তু নতুন বেতনক্রমে ২৬ হাজার ২৯০ টাকার কোনো ধাপ নেই। তাই পরবর্তী উচ্চতর ধাপ অর্থাৎ ২৬ হাজার ৩০০ টাকা নতুন মূল বেতন হিসেবে নির্ধারিত হবে।

যাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মূল বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা, সিনিয়র সচিবের ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড ১ এর ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব নির্ধারিত মূল বেতনের ক্ষেত্রে ওপরের দুই পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণ প্রযোজ্য হবে না।

ধাপে ধাপে কার্যকর হবে বেতন বৃদ্ধি

নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতন ধাপে ধাপে দেওয়া হবে। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন।

২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বর্ধিত বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে। নতুন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ায় প্রাপ্য বকেয়া বেতন পাওয়ারও বিধান রয়েছে।

প্রেষণ, ছুটি ও অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা কর্মীদের নিয়ম

প্রেষণে থাকা কোনো কর্মচারীর বেতন নির্ধারণ করা হবে তিনি নিজ দপ্তরে কর্মরত থাকলে যে বেতন পাওয়ার অধিকারী হতেন, সেই ভিত্তিতে। ছুটি, সাময়িক বরখাস্ত ও অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রজ্ঞাপনে পৃথক নিয়ম রাখা হয়েছে।

তবে কোনো কর্মচারীর অবসরোত্তর ছুটি ৩০ জুন শেষ হয়ে ১ জুলাই তিনি অবসরে গেলে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নতুন করে বেতন নির্ধারণের সুবিধা তিনি পাবেন না।

আট বছর পর মিলবে উচ্চতর গ্রেড

কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়াই একই পদে আট বছর পূর্ণ করলে এবং তার চাকরি সন্তোষজনক হলে নবম বছরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই পদের মূল স্কেলের পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন। তবে এভাবে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া পদোন্নতি হিসেবে গণ্য হবে না।

নতুন প্রজ্ঞাপনে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, প্রেষণ, ছুটি ও উচ্চতর গ্রেডসহ বিভিন্ন বিষয়ে পৃথক নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।