জাতীয়

সনদের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

সনদের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবমুখী জ্ঞান, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ পর্যায়ে ভবিষ্যতে কোন বিষয়ে পড়াশোনা করবে এবং কোন ক্ষেত্রে কর্মজীবন গড়ে তুলবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। লক্ষ্য অনুযায়ী নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করলে ভবিষ্যতে কর্মজীবনে সফল হওয়া সহজ হবে।

আজ জেলার গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নুমেরী জামান, উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারীসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য, দক্ষ ও আত্মনির্ভর মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে। ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ভাষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু একাডেমিক সনদ অর্জন করলেই হবে না; বাস্তব জীবনে সেই জ্ঞান প্রয়োগের সক্ষমতাও থাকতে হবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের পরিচিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।

গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে ছাত্রীদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত ইতিবাচক। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শুধু অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, একটি সুন্দর ও কার্যকর একাডেমিক পরিবেশও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা ছাত্রীদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়াতে কলেজে একটি ছাত্রীনিবাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে কলেজে অনার্স চালুর জন্য প্রস্তাবিত পাঁচটি বিষয়ে দ্রুত অনুমোদনের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন।

তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, কলেজের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত আইসিটি ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান ও আরবি ভাষা শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এর সঙ্গে কারিগরি প্রশিক্ষণ যুক্ত করা গেলে শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারে নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারবে।

এ লক্ষ্যে গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

সিলেটের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, একসময় সিলেটের বহু মানুষ সিভিল সার্ভিস, সামরিক বাহিনী, পুলিশ, চিকিৎসা, প্রকৌশলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। বর্তমান প্রজন্মকে মানসম্মত শিক্ষা, যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জীবনে সফল হতে হলে শুরু থেকেই নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। লক্ষ্য অনুযায়ী নিয়মিত অধ্যয়ন, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়, বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যও নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে।