জাতীয়
দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও এলএনজি সরবরাহে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির সুযোগ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেল স্যাম মস্টিনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন ও আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাপত্র দেন হাইকমিশনার। এ জন্য গভর্নর জেনারেলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।
বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি অনুসন্ধান, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিকিৎসা প্রযুক্তি, পণ্য পরিবহন ও উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
আগামী নভেম্বরে ক্যানবেরায় অনুষ্ঠেয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামো চুক্তির বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ জনশক্তি হিসেবে কাজের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও বিভিন্ন কারিগরি পেশায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগকে স্বাগত জানান তিনি।
এ ছাড়া বৃত্তি ও শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচিতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ঢাকায় ক্যানবেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শাখা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা চান রাষ্ট্রপতি।
দেশের ক্রমবর্ধমান কর্মশক্তিকে কর্মোপযোগী করে গড়ে তুলতে অস্ট্রেলিয়ার কারিগরি ও উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি। বিশেষ করে পরিচর্যাকারী প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও উঠে আসে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে অস্ট্রেলিয়ার মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সংকটের টেকসই সমাধানে দেশটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার অংশীদারিত্বে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ ও যাতায়াত আরও সম্প্রসারিত হবে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ইতিবাচক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহের কথা জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে।