জাতীয়

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ বাড়াতে ঢাকার আহ্বান


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ বাড়াতে ঢাকার আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার জন্য কোরিয়ার বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশটিতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা।

বৃহস্পতিবার (তারিখ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য সমঝোতা বিষয়ক উপমন্ত্রী হাইজিন কোয়ন এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) ভাইস প্রেসিডেন্ট দো ইয়ং-আহ-এর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৈঠক দুটিতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা, উন্নয়ন অংশীদারত্ব এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

হাইজিন কোয়নের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার কোরীয় বাজারে প্রবেশ বাড়াতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য ব্যবধান ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য ও খাদ্যপণ্যের কোরীয় বাজারে প্রবেশ সহজ করতে খাদ্য নিরাপত্তা পরিদর্শন ও কোয়ারেন্টাইনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও সহজ করার অনুরোধ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এসব ক্ষেত্রে জটিলতা কমানো গেলে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিভিন্ন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

২০২৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়াকে স্বাগত জানান হুমায়ুন কবির। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রক্রিয়ায় এই চুক্তি দেশটির অর্থনীতিকে দক্ষিণ কোরিয়া ও বৃহত্তর আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির প্রস্তাবিত বাংলাদেশ সফরের সময় সিইপিএ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে।

বৈঠকে আঞ্চলিক বিশ্বস্ত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বা আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থন কামনা করেন হুমায়ুন কবির। পাশাপাশি বাংলাদেশে আরও বেশি কোরীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে কোরিয়ার বড় শিল্পগোষ্ঠী বা কনগ্লোমারেট এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করার কথাও বলেন তিনি। যৌথ বিনিয়োগ প্রচার উদ্যোগ এবং সরকার-থেকে-সরকার সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও শিল্পায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করে হুমায়ুন কবির দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারে ঢাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

জবাবে হাইজিন কোয়ন দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। তিনি সিইপিএ কাঠামোর আওতায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে দক্ষিণ কোরিয়ার আগ্রহের কথা জানান।

এদিকে, কোইকার ভাইস প্রেসিডেন্ট দো ইয়ং-আহ-এর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় পানি নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমুখী কারিগরি শিক্ষা এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার আরও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কোইকার দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করে হুমায়ুন কবির অনুদান সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, কারিগরি সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের জন্য সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে ৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ‘সেমাউল প্লাস ইন্ডিং প্রভার্টি প্রোগ্রাম’-এর জন্য কোইকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ, সমন্বিত ও রূপান্তরমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে দুই পক্ষের উন্নয়ন সহযোগিতা নতুন পর্যায়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিজিটাল পাবলিক সার্ভিসকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির। এসব খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পের অর্থায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার দ্রুত সম্মতি ও সহযোগিতা কামনা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানান দো ইয়ং-আহ। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন সহযোগিতার অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নতুন ক্ষেত্র ও কর্মসূচি নিয়ে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানান তিনি।

বৈঠক দুটিতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।