জাতীয়

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বদলাতে লাগবে গণভোট, সংবিধানে ফিরছে বিধান


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বদলাতে লাগবে গণভোট, সংবিধানে ফিরছে বিধান
ছবি: সংগৃহীত

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহালের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হলেও জনগণের অনুমোদন নেওয়ার বিধান রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে বাদ দেওয়া গণভোটের বিধান আদালতের রায়ের পর সংশোধিত সংবিধানে পুনরায় যুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধি ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামনে যে সংবিধান সংশোধনী আনা হবে, সেখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন ও সংযোজনের প্রস্তাব থাকবে। এসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে সাংবিধানিক গণভোটের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার বিষয়টি সংশোধনীতে থাকবে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন নির্বাহী ব্যবস্থা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সম্পর্কিত বিষয়ও রয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ব্যবস্থা সংবিধানে ফিরিয়ে আনার পর ভবিষ্যতে কেউ যাতে সহজে তা পরিবর্তন করতে না পারে, সে জন্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও জনগণের কাছে যেতে হবে। এ কারণে গণভোটের বিধান রাখা হবে।

তিনি আরও বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছিল। আদালত ওই পরিবর্তনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন এবং আগের বিধানই সঠিক ছিল বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আসন্ন সাংবিধানিক সংশোধনীতে গণভোটের বিধান পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ডকট্রিন অব ইক্লিপসের উদাহরণ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো অসাংবিধানিক পরিবর্তন আদালত বাতিল করলে আগের সাংবিধানিক বিধান কার্যকর হওয়ার প্রশ্নটি এই নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সংসদে পুনরায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না করা পর্যন্ত বিষয়টি পুরোপুরি প্রতিস্থাপিত হয়েছে বলা যায় না বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের রায়ের ভিত্তিতেই সংবিধানের আসন্ন সংশোধনীতে গণভোটের বিধান পুনরায় যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে সংবিধানের প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও অন্যান্য মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক গণভোটের বিধান রাখা হবে।

এর আগে ১৯৭৯ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান যুক্ত হয়। পরে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আনা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই বিধান বাদ দেওয়া হয়। একই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাও সংবিধান থেকে বাতিল করা হয়েছিল।

২০২৬ সালের ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহালের বিষয়টি নতুন করে সাংবিধানিক আলোচনায় আসে।

সাম্প্রতিক সময়ে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির আলোচনাতেও গণভোটের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংবিধানের যেসব অংশ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বাধ্যবাধকতা থাকবে, সংশোধনী সংসদে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে সেই গণভোট আয়োজন করা হবে।

আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় সংবিধানের সংশোধিত রূপ বা নতুন একটি পাঠ প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে। সেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাদ পড়া গণভোটের বিধান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধান পুনঃস্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।