রাজনীতি

নির্বাচনী প্রস্তুতির নির্দেশনা দেওয়ায় ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ জানালেন মির্জা ফখরুল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৫, ০৪:৪১ পিএম

নির্বাচনী প্রস্তুতির নির্দেশনা দেওয়ায় ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ জানালেন মির্জা ফখরুল
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের শেষ দিকে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতির আহ্বান জানানোয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “ড. ইউনূস সাহেব সম্প্রতি নির্বাচনী প্রস্তুতির নির্দেশনা দিয়েছেন, আমি তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই। এটা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ। আমরা চাই—দেশে আগামী নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।”

আলোচনা সভায় সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, “সীমান্ত হত্যা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। প্রতিনিয়ত মানুষ মারা যাচ্ছে, এটা বন্ধে কূটনৈতিকভাবে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। এখন সময় এসেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবার।”

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, “এই শুল্ক আরোপের হুমকি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য ভয়াবহ হতে পারে। সরকারের উচিত দ্রুত কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া, নয়তো দেশের অন্যতম রপ্তানিখাত মুখ থুবড়ে পড়বে।”

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “দেশে রাজনৈতিকভাবে স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা এখনও রয়ে গেছে। তরুণ নেতৃত্বের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে ‘অমুক না হলে তমুক হবে না’—এই ধরণের বক্তব্য। এই মনোভাব গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। এমনকি ফেসবুকে সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে পোস্ট দেওয়া হচ্ছে, যা স্পষ্টত গণতন্ত্রবিরোধী ভাষা।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর মানুষ নতুন করে আশাবাদী হয়েছে। এই আশা ধরে রাখতে হলে প্রয়োজন হবে ধৈর্য, সহনশীলতা আর ঐক্য। জনগণ এখন অনেক সচেতন, তারা সবকিছু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অতীতে যারা অহঙ্কার করেছিলেন, আজ তারা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছেন। বাংলার মানুষ কখনও দমননীতি মেনে নেয়নি, ভবিষ্যতেও নেবে না।”