রাজনীতি
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া
দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এসব কারণে মাঝে মধ্যেই তাকে হাসপাতালে যেতে হয়। সর্বশেষ শারীরিক কিছু জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। রাত ১টা ৪৮ মিনিটে তিনি সেখানে পৌঁছান।
পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রাত ২টা ৫২ মিনিটে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’য় ফেরেন খালেদা জিয়া। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার।
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং আর্থ্রাইটিসসহ নানা ধরনের পুরোনো ও জটিল রোগে আক্রান্ত। এসব কারণে তাকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতি ঘটে। সে সময় উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার আবেদন বারবার প্রত্যাখ্যান করে সরকার, যার ফলে চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হয় বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যায়। পরিবর্তিত এই বাস্তবতায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান বেগম খালেদা জিয়া। হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে সরাসরি লন্ডনের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে ১৭ দিন চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ছেলেবাড়ি কিংস্টোনে যান তিনি।
হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় চিকিৎসকরা জানান, তার লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও বয়সজনিত কারণে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। তাদের মতে, কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
তিন মাস চিকিৎসা ও বিশ্রাম শেষে চলতি বছরের ৬ মে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন বিএনপি নেত্রী। দেশে ফেরার পর থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবেই গতকালকের হাসপাতাল যাত্রা বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও শারীরিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা খালেদা জিয়া বর্তমানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ না নিলেও দলীয় কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন বলে জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠরা।