রাজনীতি

মার্কিন পাল্টা শুল্ক কমানো রপ্তানির জন্য 'সন্তোষজনক': আমীর খসরু


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৫, ০৬:৫৬ পিএম

মার্কিন পাল্টা শুল্ক কমানো রপ্তানির জন্য 'সন্তোষজনক': আমীর খসরু
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে ‘সন্তোষজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, এই শুল্কহার রপ্তানিকারকদের জন্য আপাতত স্বস্তিদায়ক হলেও এর পেছনের শর্তগুলো জানা না থাকায় বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে মূল্যায়ন করা যাচ্ছে না।

শুক্রবার (১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এটা কোনো জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়। ২০ শতাংশ ট্যারিফ এখনকার প্রেক্ষাপটে তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক। পাকিস্তানে ১৯ শতাংশ, ভারতে ২৫ এবং ভিয়েতনামে ২০ শতাংশ শুল্ক হার বলবৎ আছে। সেই হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার দিক দিয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।”

তবে শুধু শুল্ক কমানোতেই খুশি হওয়ার সুযোগ নেই বলে মত দেন খসরু। তিনি বলেন, “আমরা শুধু ট্যারিফের হার জানি, কিন্তু এর বিপরীতে আমাদের কী দিতে হয়েছে, সেটা জানি না। এটা তো একটা প্যাকেজ ডিল। হয়তো এর সঙ্গে এমন কিছু শর্ত জড়িত রয়েছে, যা আমাদের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।"

আমীর খসরু মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কী কী শর্তে আলোচনা করেছে তা স্পষ্ট করা উচিত। “ট্যারিফ কমেছে ভালো কথা, কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পেছনে আমেরিকার দাবি-দাওয়া, পণ্যের আদান-প্রদান, কূটনৈতিক চুক্তি—সব কিছু জানলে আমরা বিষয়টি ঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারব।”

সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য সচিব যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, “এটি ট্যারিফ চুক্তির অংশ কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে এটা ঠিক, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় তাদের পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর জন্য চাপ দিয়ে থাকে। এর মধ্যে বোয়িং কেনার বিষয়টিও থাকতে পারে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমাদের অর্থনীতি শুধু আমেরিকা নির্ভরশীল হতে পারে না। রপ্তানি খাতকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করতে হবে। ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য বাজারে প্রবেশের কৌশল নিতে হবে।”

খসরু আরও বলেন, “বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং—এই তিনটি জায়গায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু রপ্তানি বাড়ালেই হবে না, পুরো অর্থনীতিকে সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক করতে হবে।”