সারাদেশ

ইশরাকের পর এবার মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আলোচনায় বিএনপি নেতা ফারুক


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম

ইশরাকের পর এবার মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আলোচনায় বিএনপি নেতা ফারুক
ছবি: সংগৃহীত

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা ৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলার মধ্যেই মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে সহযোগীদের নিয়ে বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় নিজ উদ্যোগে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। এ সময় নিজ হাতে কয়েকজন মাদকসেবীকে মারধর করেন বলে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে।

বিএনপি নেতা ফারুকের এই অভিযানের ৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নেটিজেনদের কেউ কেউ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে অনেকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে সমালোচনা করেছেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নগরীর আমানগঞ্জ এলাকার টিবি হাসপাতাল মাঠে মনিরুজ্জামান খান ফারুকের নেতৃত্বে কয়েকজন মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছেন। এ সময় মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাভিদুর রহমান তুষারসহ বেশ কয়েকজন দলীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রথমে দুজন এবং পরে আরও দুজনকে আটক করেন। পরে মনিরুজ্জামান ফারুক তাদের চড়থাপ্পড় মারেন এবং পাইপ দিয়ে পেটান। তবে অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।

মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, মাদকের উৎপাতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তাই নিরুপায় হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছেন তিনি। এলাকায় কোনো মাদকের ঠাঁই হবে না বলেও জানান এই বিএনপি নেতা।

তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নগরীর আমানগঞ্জের টিবি হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় তিন থেকে চারজনকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করলে তারা ছাড়া পেয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ফারুক। এ কারণে আপাতত হুঁশিয়ারি দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আটক ব্যক্তিদের চড়থাপ্পড় মারার বিষয়ে ফারুক বলেন, সন্তানকেও শাসন করা যায়। সেই হিসেবেই তিনি চড় মেরেছেন।

বিএনপি নেতার এই মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর পুলিশের কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, অভিযান সম্পর্কে আগে বা পরে কিছুই জানানো হয়নি। তবে ওই এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের বিরুদ্ধে সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের এগিয়ে আসা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারীদের ছেড়ে দেয় বলে বিএনপি নেতার অভিযোগ প্রসঙ্গে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত মতামত। তিনি যা খুশি বলতে পারেন।

প্রসঙ্গত, ঢাকা ৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে গত শনিবার বিকেলে নিজের নির্বাচনী এলাকার গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমেছিলেন। সেই অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।