সারাদেশ

চট্টগ্রামে জশনে জুলুসে পদদলিত হয়ে ২ জনের মৃত্যু


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৪ পিএম

চট্টগ্রামে জশনে জুলুসে পদদলিত হয়ে ২ জনের মৃত্যু
চট্টগ্রামে জশনে জুলুসে পদদলিত হয়ে ২ জনের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহাসিক জশনে জুলুসে পদদলিত হয়ে মর্মান্তিকভাবে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নগরীর মুরাদপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা আইয়ুব আলী (৬০) এবং নগরের কালামিয়া বাজার এলাকার কিশোর সাইফুল ইসলাম (১৩)।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রানা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। বাকি আহতদেরও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আয়োজক সংস্থা আঞ্জুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের মেডিকেল টিমের সহায়তায়। টিমের সদস্য আমিনুর রহমান জানান, অতিরিক্ত গরম ও প্রচণ্ড ভিড়ে হঠাৎ করে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। মুহূর্তেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, এবং পদদলনের ঘটনা ঘটে। আটজনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে দুজনের মৃত্যু হয়।

প্রতিবছরের মতো এবারও জুলুসের আনুষ্ঠানিকতা সকাল ১০টায় শুরু হয় নগরীর আলমগীর খানকা শরীফ থেকে। শোভাযাত্রায় অংশ নিতে ভোর থেকেই নগরের বিভিন্ন মোড়ে সুসজ্জিত ট্রাক ও মিনি ট্রাক জড়ো হয়। পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা, মুরিদ ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়।

জুলুস ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নগরজুড়ে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য, এবং আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছিলেন।

জুলুসের নেতৃত্বে ছিলেন আঞ্জুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের প্রধান পীরে তরিকত আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ। তিনি বলেন, “জশনে জুলুস নবীপ্রেমের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, আমাদের সমাজে নবীজির প্রতি ভালোবাসা ও ঐক্য কত গভীর।”

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের জন্য প্রতিটি মোড়ে শরবত, ঠাণ্ডা পানি ও তাবাররুক বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়। নানা বয়সী নারী-পুরুষ, শিশু ও স্বেচ্ছাসেবকরা এই সেবায় অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, এটি কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি এখন ভ্রাতৃত্ব, সম্মান ও নবীপ্রেমের বৃহত্তম উৎসবে পরিণত হয়েছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে জশনে জুলুস আয়োজনের সূচনা হয় ১৯৮০ সালে। গত ৫৪ বছর ধরে আঞ্জুমান-এ-রহমানিয়া ট্রাস্ট এ আয়োজন করে আসছে। সময়ের সাথে এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় জমায়েতে রূপ নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিচিতি পেয়েছে।