সারাদেশ
রায়পুরে মা-তিন মেয়েসহ পাঁচ মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক দুই মামলা
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এবং পরবর্তী গণপিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক দুইটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত শাহীনুর বেগমের ছেলে সিফাত হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করবে। ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার একটি ভাড়া বাসায় শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর মজুমদারের নাম উঠে এসেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দিলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মরদেহগুলো রায়পুর থানায় রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত শাহীনুর বেগমের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে নিহত অন্তর মজুমদারের নাম উল্লেখ করা হবে।
অন্যদিকে গণপিটুনিতে অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনাও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
লক্ষ্মীপুর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, গণপিটুনির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে ফুটেজ পর্যালোচনা চলছে। শনাক্তের পর তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করা হবে। পাশাপাশি মা ও তিন মেয়েকে হত্যার ঘটনাতেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনায় মা ও তিন মেয়েসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় এখনও শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।