সারাদেশ
শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের রিমান্ড মঞ্জুরের পরদিনই তদন্ত কর্মকর্তা বদলি!
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের পরদিনই তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. আলাউদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। তাকে হাটহাজারী থানা থেকে সন্দ্বীপ থানায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রিমান্ড চলাকালে আসামিকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে এই বদলি করা হয়েছে কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই হাটহাজারীর বড়দিঘির পাড় এলাকায় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ৭ থেকে ৮ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এ সময় সেখানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পরে জসিম উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
পরবর্তীতে ওই মামলায় মো. আসিফ ও ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন।
এর আগে গত ২ আগস্ট আদালত ডেভিড ইমনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। পরে ১২ আগস্ট চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হাকিম তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নিরাপত্তার কারণে তাকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও হাটহাজারী সার্কেলের কর্মকর্তা তারেক আজিজ।
রিমান্ড শেষ হচ্ছে আজ রোববার (১৬ আগস্ট)। আগামীকাল সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হতে পারে।
এদিকে রিমান্ড মঞ্জুরের পরদিন, ১৩ আগস্ট জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আলাউদ্দিনকে সন্দ্বীপ থানায় বদলির নির্দেশ দেন। হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার রাতের মধ্যেই আলাউদ্দিনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং আজকের মধ্যে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে।
তবে উপপরিদর্শক আলাউদ্দিনের দাবি, তাকে প্রশাসনিক কারণে নয়, ‘জনস্বার্থে’ বদলি করা হয়েছে। কিন্তু রিমান্ড মঞ্জুরের একদিন পরই কেন তাকে বদলি করা হলো, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
এদিকে মামলার তদন্তভার নিয়েও কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ শনিবার জানান, তিন দিন আগেই মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছিল। কারণ, ডেভিড ইমনকে নিয়ে তারা আগে থেকেই কাজ করেছে।
তবে রিমান্ডের মধ্যেই তদন্ত কর্মকর্তা বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত উপপরিদর্শক আলাউদ্দিনই কাজ করছেন। নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও মামলাটি হাটহাজারী থানাতেই থাকবে।
ডেভিড ইমন রিমান্ডে কী ধরনের তথ্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি। জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ দুজনই জানান, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে কোনো তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
মামলার বাদী জসিম উদ্দিনও তদন্ত কর্মকর্তা বদলি কিংবা মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশে হস্তান্তরের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই ভারতের সীমান্ত দিয়ে পালানোর সময় যশোর থেকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হন ফটিকছড়ির বাসিন্দা ডেভিড ইমন। পরদিন তাকে চট্টগ্রামে এনে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা-সহ ১৯টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ডেভিড ইমন। অপরজন মোহাম্মদ রায়হান। পুলিশের দাবি, ইমন অস্ত্র ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষ এবং তার কাছে ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য রয়েছে।