সারাদেশ

শরীয়তপুরে ছাত্রদল–এনসিপির দফায় দফায় সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণে আহত ১০


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৬ এএম

শরীয়তপুরে ছাত্রদল–এনসিপির দফায় দফায় সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণে আহত ১০
ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরে ছাত্রদল ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জেলা শহরের চৌরঙ্গি মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় জেলা ছাত্রদলের কর্মী হাওলাদার মোহাম্মদ আকাশ মোটরসাইকেলে করে চৌরঙ্গি মোড় দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে এনসিপির একটি বিক্ষোভ মিছিল ওই এলাকায় পৌঁছায়। মোটরসাইকেল সাইড নেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আকাশকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ককটেল ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ইসাহাক সরদার, সদস্য শফিকুর রহমান সাগর, আবিদ খান, কর্মী আরমান দরজি, নিরব তালুকদার, রাকিব তালুকদার, হাওলাদার মোহাম্মদ আকাশ, তুলাসার ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মেহেদী হাসান নাঈম বেপারী, বিএনপির কর্মী মোহাম্মদ আলী এবং জেলা এনসিপির সদস্য সচিব সবুজ তালুকদার।

চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মধ্যে তুলাসার ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মেহেদী হাসান নাঈম বেপারীর চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘এনসিপির মিছিল থেকে পরিকল্পিতভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ছাত্রদলের পরিচয় দেওয়ার পরই আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়, এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।’

অন্যদিকে জেলা এনসিপির সদস্য সচিব সবুজ তালুকদার বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হঠাৎ একটি ছেলে মোটরসাইকেল নিয়ে ঢুকে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে।’

শরীয়তপুর সদর থানার পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘মোটরসাইকেল নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

ঘটনার পর চৌরঙ্গি মোড়সহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।