সারাদেশ
বিএনপি নেতা ফারুক হত্যা মামলায় রায়, ছাত্রলীগ নেতাসহ ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে এই মামলায় একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় দেন।
টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারের ছোট ছেলে সানিয়াত খান বাপ্পা ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাকি দুজন হলেন হলেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ (২৫) ও দাইন্যা ইউনিয়নের শ্রীফলিয়াটা গ্রামের মো. সহিদ মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান মিয়া (৩১)। তারা সকলেই পলাতক রয়েছেন।
এছাড়া যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- টাঙ্গাইল সদর থানার কাঠোয়া যোগনী গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে মো. সুজন (৩২), শ্রীফলিয়াটা গ্রামের রওশন আলীর ছেলে সানোয়ার হোসেন (৩৪), উত্তর কাইয়ামারা নদীর পাড় (চর পাড়া) গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম শফিক (২৫) ও ছিটকী বাড়ি গ্রামের নুর বক্সের ছেলে রুজবেল ওরফে ইমন।
তাদের মধ্যে শফিক ও রুজবেল পলাতক রয়েছেন। রায়ে সঞ্জিত ঘোষ (২৬) নামে এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। সঞ্জিত ঘোষ সদর থানার দাইন্যা চৌধুরী গ্রামের অমূল্য ঘোষের ছেলে। তিনি আদালতে হাজির ছিলেন।
এদিকে, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের ১ লাখ টাকা করে ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ১ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সুজন ও সানোয়ার হোসেনকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন টাঙ্গাইল শহরের আকুর টাকুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি প্রাতঃভ্রমণে বের হন। আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পরদিন ফারুকের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ। তবে গোয়েন্দা পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া।
এরপর আদালতের নির্দেশে মামলাটির পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডির পরিদর্শক রফিক উদ্দিন আহম্মেদ আবারও অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
পরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ১৩ বছর পর সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
টাঙ্গাইল জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি সাইদুল রহমান স্বপন বলেন, বিচার শেষে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এছাড়া যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনকেই ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককেই আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।