সারাদেশ

আওয়ামী লীগ নেতাকে কারামুক্ত করতে প্রত্যয়নপত্র দিলো বিএনপি নেতারা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম

আওয়ামী লীগ নেতাকে কারামুক্ত করতে প্রত্যয়নপত্র দিলো বিএনপি নেতারা
ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী এক নেতাকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত দাবি করে কারাগার থেকে মুক্তির জন্য প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাটুরিয়ার স্থানীয় বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

কারাবন্দি ওই নেতার নাম মুহাম্মদ রুহুল আমিন (রুবেল)। তিনি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের সাভার গ্রামের বাসিন্দা। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর গঠিত বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিতে তাকে আইনবিষয়ক সম্পাদক করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দলীয় নথিতেও বর্তমানে ওই পদে তার নাম রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রুহুল আমিনকে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত করতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর পৃথক দুটি প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়। এর একটি প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ, ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন এবং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নান।

ওই প্রত্যয়নপত্রে দাবি করা হয়, রুহুল আমিন ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং বিএনপির বিভিন্ন কার্যক্রমে তারা সহযোগিতা করে আসছেন। প্রত্যয়নপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, রুহুল আমিন কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

এর একদিন আগে উপজেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সভাপতি মো. বাবুল হোসেনের স্বাক্ষরেও আরেকটি প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়। সেখানেও রুহুল আমিন ও তার পরিবারের বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবি করা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, ৫ আগস্টের আগে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার উৎখাতের আন্দোলন-সংগ্রামে’ তারা অংশ নিয়েছেন। ওই প্রত্যয়নপত্রেও দাবি করা হয়, রুহুল আমিন কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

তবে আওয়ামী লীগের দলীয় নথিতে পাওয়া তথ্য এসব দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মো. ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিনের স্বাক্ষরিত ঘোষিত কমিটিতে রুহুল আমিনকে বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই কমিটিই এখনো বহাল রয়েছে এবং সেখানে রুহুল আমিনের পদও রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, নাশকতার পরিকল্পনা এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে গত ২২ সেপ্টেম্বর রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করে সাটুরিয়া থানার পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাদের মতে, আওয়ামী লীগের পদধারী একজন ব্যক্তির পক্ষে বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন তৈরি করে। বিষয়টি স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও তারা মনে করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পদধারী একজন ব্যক্তির পক্ষে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিএনপির নেতাদের প্রত্যয়ন দেওয়া সংগঠন ও রাজনৈতিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন তৈরি করে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

মানিকগঞ্জ সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর জেলা কমিটির সহসভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তার পক্ষে রাজনৈতিক প্রত্যয়ন দেওয়ার আগে অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘প্রত্যয়নপত্র দেওয়া ভুল হয়েছে। রুহুল আমিনের আওয়ামী লীগে পদ-পদবি আছে, তা আমার জানা ছিল না।’

তিনি জানান, দেওয়া প্রত্যয়নপত্রটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

এদিকে, আওয়ামী লীগের দলীয় নথিতে রুহুল আমিনের পদ থাকার তথ্য এবং বিএনপি ও তাঁতী দলের প্রত্যয়নপত্রে তাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কখনো সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে উল্লেখ করার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। একই ব্যক্তিকে নিয়ে দুই রাজনৈতিক দলের নথি ও বক্তব্যের এমন পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।