সারাদেশ

শিক্ষকদের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে শার্শা ও বেনাপোলে মানববন্ধন


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:৩৪ পিএম

শিক্ষকদের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে শার্শা ও বেনাপোলে মানববন্ধন
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে এবং ন্যায্য দাবির পক্ষে যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে শিক্ষক ও কর্মচারীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ, চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা এবং কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা প্রদানের দাবি জানান।

শিক্ষকরা বলেন, দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, অথচ তাদের প্রাপ্য সুবিধা এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।

শার্শা উপজেলার ৩৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩৬টি মাদ্রাসায় চলমান ‘লাগাতার কর্মবিরতি’র অংশ হিসেবেই এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

বেনাপোলে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাহেব আলী বলেন, “আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। যা বেতন পাই, তা দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা করানো সম্ভব নয়। আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

তবিবর রহমান সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আয়ুব হোসেন বলেন, “মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতার দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা মানববন্ধনে অংশ নিয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না।”

বেনাপোল মদিনাতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক আমিনুল ইসলাম জানান, “কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের মাদ্রাসায়ও কর্মবিরতি চলছে। আজ উপজেলার সব এলাকায় শিক্ষক ও কর্মচারীরা মানববন্ধন করছেন।”

শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ শাহাজান কবীর বলেন, “কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শার্শা ও বেনাপোলের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা আজ একযোগে মানববন্ধন করছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”

মানববন্ধনে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারী অংশ নেন। তারা দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত কর্মবিরতি ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।