সারাদেশ

ময়মনসিংহে বাস ও সিএনজির সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৭


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

ময়মনসিংহে বাস ও সিএনজির সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৭
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে নগরীর পূর্ব গন্দ্রপা বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। তারা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) এবং মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)।

তারা জামালপুর থেকে গাজীপুরে যাচ্ছিলেন। মোফাজ্জল হোসেন সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে এখনো তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তাদের সঙ্গে থাকা মুঠোফোনসহ বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে পুলিশ বাসটি আটক করে রেকার দিয়ে জব্দ করে রাখে। তবে বাসের চালক ও সহকারীকে পাওয়া যায়নি। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

তিনি আরও জানান, বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে থাকা সাত যাত্রীর সবাই প্রাণ হারান।

ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ময়মনসিংহ বাইপাসগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন অটোরিকশার ভেতর থেকে নিহতদের উদ্ধার করেন। এরপর তাদের মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মামুন হোসেন জানান, জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় বিকট শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ দেখতে পান। স্থানীয় লোকজন বাসটি ঠেলে সরিয়ে অটোরিকশাটি বের করেন। পরে সেটির ভেতর থেকে নিহতদের উদ্ধার করা হয়।

মামুন হোসেন আরও বলেন, এই সড়কে দিন দিন যানবাহনের চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনাও। দুর্ঘটনা কমাতে সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি চালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।