সারাদেশ

স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করতে পরকীয়া প্রেমিকে সাথে নিয়ে শাশুড়িকে হত্যা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১১:১৫ এএম

স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করতে পরকীয়া প্রেমিকে সাথে নিয়ে শাশুড়িকে হত্যা
ছবিঃ সংগৃহীত

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বসতঘর থেকে হাত-পা, মুখ বাঁধা এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৬৩) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। মূলত স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা চুরির উদ্দেশ্যেই পরকীয়া প্রেমিককে সাথে নিয়ে শাশুড়িকে হত্যা করেন তামান্না। এই ঘটনায় তার পুত্রবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় র‍্যাব-৯ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল অভিযান চালিয়ে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যসমত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়া তামান্না আক্তার (২২) ওই গ্রামের বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার কেএম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে নবীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৬০) নবীগঞ্জ উপজেলার মধ্যসমত এলাকার বাসিন্দা। তার এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। ছেলে দুবাই প্রবাসী এবং দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। দুবাই প্রবাসী ছেলের স্ত্রী তামান্না আক্তারকে নিয়ে তিনি বাড়িতে বসবাস করতেন। ছেলের বিয়ের সময় পুত্রবধূকে ৫ ভরি স্বর্ণলংকার দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিয়ের পর উক্ত স্বর্ণলংকার তিনি নিজের হেফাজতে রাখেন। ফলে পুত্রবধূ ও শাশুড়ির মধ্যে প্রায় সময়ই কথা কাটাকাটি লাগত। এরইমধ্যে টিকটক আইডির মাধ্যমে শিপন মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে তামান্নার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই সূত্রধরে শিপন প্রায়ই তামান্নার বাড়িতে এসে দেখা করত। 

প্রেম গভীর পর্যায়ে পৌঁছালে তারা নিহত ফেরদৌসীর ঘরে থাকা স্বর্ণলংকার ও টাকা পয়সা চুরি করার পরিকল্পনা করে। এরই প্রেক্ষিতে ১৫ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিপন আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ফেরদৌসী ইসলামের বাড়িতে আসে। তখন তাদের ঘরের পিছনের দরজা খুলে দেয় তামান্না। এরপর তারা ঘরে ঢুকে ফেরদৌসী ইসলামকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেয়ে মুখ চেপে ধরলে তিনি ধস্তাধস্তি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা তার দুই হাত ও দুই পা কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখে। তখন তিনি চিৎকারের চেষ্টা করলে স্কচ টেপ দিয়ে মুখ আটকিয়ে গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যার পর তারা ঘরে থাকা স্বর্ণলংকার ও টাকা-পয়সা নিয়ে যায়। 

পরবর্তীতে নিহতের ভাই ঘটনার খবর পেয়ে বাড়িতে এসে বোনের দুই হাত ও পা কাপড় দিয়ে বাঁধা এবং মুখে স্কচ টেপ দিয়ে আটকানো লাশ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

এরই প্রেক্ষিতে র‍্যাব-৯ এ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। অবশেষে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তামান্নাকে গ্রেফতার করে।