সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গায় নজরুল মেলার মঞ্চে এমপি উপস্থিত, তবুও নাম নেই ব্যানারে


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১১:০০ এএম

চুয়াডাঙ্গায় নজরুল মেলার মঞ্চে এমপি উপস্থিত, তবুও নাম নেই ব্যানারে
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী নজরুল মেলাকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ‘DC Chuadanga’-এ প্রকাশিত পোস্ট ও অনুষ্ঠানের ব্যানারে চুয়াডাঙ্গা-২ আসন–এর সংসদ সদস্য এবং জেলা জামায়াতের আমির মো. রুহুল আমিনের নাম উল্লেখ না থাকায় এ আয়োজন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার দামুড়হুদা উপজেলার কবির স্মৃতিবিজড়িত কার্পাসডাঙ্গায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন হয়। এ সময় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।

তবে জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে উল্লেখ করা হয়, দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় আয়োজিত কবির স্মৃতিবিজড়িত আটচালায় নজরুল মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত নাহার। পোস্টে আরও বলা হয়, অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার সম্মতি রয়েছে।

শনিবার বিকেলে প্রথম দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন উপস্থিত থাকলেও অনুষ্ঠানের ব্যানারে তাকে প্রধান অতিথি, সভাপতি বা বিশেষ অতিথি হিসেবে কোনোভাবেই উপস্থাপন করা হয়নি। ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিল চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের নাম। এমপি রুহুল আমিনের নামই ছিল না।

এ নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও সরকারি আয়োজনে তার নাম বা ভূমিকা উল্লেখ না করার পেছনে কোনো প্রশাসনিক ব্যাখ্যা রয়েছে কি না।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ও এসিল্যান্ড শাহিন আলম বলেন, “এমপি স্যার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়টি শুক্রবার দিবাগত রাতে চূড়ান্ত করেন। এরপর এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে ব্যানারটি পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। এমপি স্যারকে কোনো কার্ডে নয়, মোবাইল ফোনে দাওয়াত দিয়েছিলাম।”

১.jpg

এমপি রুহুল আমিন বলেন, “জেলা প্রশাসক এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করেছেন। আমি থাকব জেনেও ব্যানারে ডিসি সাহেবের নাম প্রধান অতিথির তালিকায় রাখা হয়েছে। অথচ আমার নামই নেই। এমনকি কবির স্মৃতিস্তম্ভে আমার জন্য কোনো ফুলের তোড়াও রাখা হয়নি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আমি বিব্রত বোধ করেছি।”