সারাদেশ

যমজ কন্যা জন্মের পর তালাক দিয়ে ফের বিয়ে করে সন্তানসহ স্ত্রীকে ঘরে তুললেন স্বামী 


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১২:০২ পিএম

যমজ কন্যা জন্মের পর তালাক দিয়ে ফের বিয়ে করে সন্তানসহ স্ত্রীকে ঘরে তুললেন স্বামী 
ছবিঃ সংগৃহীত

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার রিনা খাতুনের অনিশ্চয়তা জীবনের অবসান হয়েছে। যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে তাকে তালাক দেওয়া হয় এবং সন্তান বিক্রির হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই রিনা খাতুন ও তার দুই কন্যাসন্তানকে পুনরায় বিয়ে করে আবারও ঘরে তুলে নিয়েছেন স্বামী রাকিবুল ইসলাম।

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের উদ্যোগে উভয় পরিবারকে থানায় ডেকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করা হয়। পরে কাজির উপস্থিতিতে ধর্মীয় ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের পুনরায় বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলার কোলা গ্রামের বাসিন্দা রিনা খাতুন গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান ধারণ করেছেন, এ খবর জানার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সন্তান জন্মের পর প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও স্বামী রাকিবুল ইসলাম তার কোনো খোঁজ নেননি। বরং তালাকের নোটিশ পাঠান বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেনের নির্দেশে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়। 

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্ত স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা মহেশপুর থানায় উপস্থিত হন। পুলিশের মধ্যস্থতায় আলোচনার একপর্যায়ে নিজের ভুল স্বীকার করে রাকিবুল ইসলাম স্ত্রী রিনা খাতুন ও তাদের দুই কন্যাসন্তানকে সম্মানের সঙ্গে ঘরে তুলে নিতে সম্মতি দেন।

স্বামী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছিল। মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসানের মধ্যস্থতায় আমরা আবারও এক হয়েছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন। 

স্ত্রী রিনা খাতুন বলেন, যে কাজটি গ্রাম করতে পারেনি, ইউনিয়ন পরিষদ করতে পারেনি, সে কাজটি করে দেখিয়েছেন ওসি সাহেব। আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন, যেন বাকি জীবন আমরা একসঙ্গে সুখে-শান্তিতে থাকতে পারি।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আমরা শুধু আইনগত ব্যবস্থার দিকেই যাইনি, শিশুদের ভবিষ্যৎ এবং একটি ভেঙে যাওয়া সংসার পুনরায় গঠনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়েছি। কাজীর মাধ্যমে তাদের পুনরায় বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ দম্পতির বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হবে।