সারাদেশ

আপ্যায়নের ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সাবেক ইউএনও নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:২২ পিএম

আপ্যায়নের ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সাবেক ইউএনও নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আপ্যায়নের নামে বরাদ্দ করা ৯০ হাজার টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফাঁকা ভাউচার সংগ্রহ করে পরে সেখানে ইচ্ছেমতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আপ্যায়ন বাবদ চারটি পৃথক ভাউচারের মাধ্যমে মোট ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাউচারে উল্লেখিত তারিখে সংশ্লিষ্ট দোকানগুলো থেকে উপজেলা প্রশাসনের নামে কোনো পণ্য বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়ীদের দাবি, অনেক সময় প্রশাসনের লোকজন তাদের কাছ থেকে ফাঁকা ভাউচার নিয়ে যেতেন, পরে সেগুলোতে নিজেদের মতো করে বিল তৈরি করা হতো।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির দুটি ভাউচারে রুমন বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি থেকে ৭০০ পিস ডিম প্যাটিস, ৩০০ পিস লেক্সাস বিস্কুট ও ১০০ পিস কেক কেনার তথ্য দেখানো হয়েছে। একই তারিখের আরও দুটি ভাউচারে বকুল ফল ভাণ্ডার থেকে ৪০ কেজি করে আপেল, আঙুর, কমলা ও পেয়ারা কেনার উল্লেখ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দোকান মালিকরা এসব পণ্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে সরবরাহ করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

রুমন বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারির কর্মচারী জনি মণ্ডল জানান, ইউএনও কার্যালয় থেকে মাঝে-মধ্যে ফাঁকা ভাউচার নেওয়া হলেও ওই সময় তাদের প্রতিষ্ঠানে এমন কোনো অর্ডার দেওয়া হয়নি। একই ধরনের দাবি করেছেন বকুল ফল ভাণ্ডারের মালিক মো. রাব্বী। তিনি বলেন, এত বড় অঙ্কের ফল উপজেলা প্রশাসন কখনো তাদের কাছ থেকে কেনেনি। অনেক সময় ফাঁকা ভাউচার নেওয়ার পর পরে নিজেদের মতো করে বিল তৈরি করা হতো।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক জামিরুল বলেন, তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। তবে তিনি দোকান থেকে ফাঁকা ভাউচার সংগ্রহের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, বিল-ভাউচার যাচাই ছাড়াই অর্থ ছাড়ের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মঞ্জিলা আফরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, আপ্যায়ন বাবদ বরাদ্দকৃত ৯০ হাজার টাকা সাবেক ইউএনও মো. নাজমুল ইসলাম নিজ স্বাক্ষরে উত্তোলন করেন। তবে এ বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর বলেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার তার নয়। তবে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছেন এবং ভবিষ্যতে কোনো সরকারি কর্মকর্তা যেন দুর্নীতিতে জড়াতে না পারেন, সে বিষয়ে বিভিন্ন সভায় গুরুত্বারোপ করেছেন।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত মো. নাজমুল ইসলাম বর্তমানে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।