সারাদেশ

গাইবান্ধার পাঁচ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা, জেলাজুড়ে নতুন উদ্দীপনা


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:২১ পিএম

গাইবান্ধার পাঁচ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা, জেলাজুড়ে নতুন উদ্দীপনা
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন নির্ধারিত প্রার্থীরা।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে এ তালিকা প্রকাশ করেন।

ঘোষিত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী—

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়া

গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে আনিছুজ্জামান খান বাবু

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসনে ডা. মইনুল হাসান সাদিক

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে শামীম কায়সার লিংকন

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি–সাঘাটা) আসনে ফারুক আলম সরকার ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

গাইবান্ধার রাজনীতিতে বিএনপির রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য ও শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি। নব্বইয়ের দশক থেকে এ জেলার কয়েকটি আসনে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে বিজয়ী হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী প্রার্থীরাই এগিয়ে ছিল। এবারের নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব, তরুণ প্রজন্মের সম্পৃক্ততা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় কর্মীদের অংশগ্রহণে বিএনপি আবারও নিজেদের হারানো ঘাঁটি পুনরুদ্ধারে আশাবাদী।

প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই জেলা জুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চলছে সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি। অনেকেই মনে করছেন, বিএনপির এ সক্রিয়তা জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গাইবান্ধার পাঁচটি আসনেই এবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গাইবান্ধা-২ (সদর), গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) ও গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নির্বাচনী জমজমাট পরিবেশের আভাস মিলছে ইতোমধ্যেই।

বিশ্লেষকদের মতে, গাইবান্ধার রাজনীতি বরাবরই দলীয় আনুগত্য, ধর্মভিত্তিক ভোট এবং স্থানীয় নেতৃত্বের জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের প্রচারণা ও জনগণের সঙ্গে যোগাযোগই নির্ধারণ করবে কে এগিয়ে থাকবে এই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায়।