সারাদেশ
রংপুরের চার খুন: আলোচিত শার্টটি নিয়ে যা জানাল আড়ং
রংপুরের চার খুনের ঘটনায় আলোচনায় থাকা শার্টটি নিয়ে এবার নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ং। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আলোচিত শার্টটি তাদের নিয়মিত পণ্যের তালিকায় নেই। কোনো একটি উৎসবকে কেন্দ্র করে এটি সীমিত পরিসরে আনা হয়েছিল। বর্তমানে শার্টটির কোনো মজুতও নেই।
মামলাটিতে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে ঘটনার সময় সিদ্ধার্থের পরনে থাকা শার্ট এবং পুলিশ কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তীর পরনের শার্ট দেখতে একই হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সিদ্ধার্থের শরীরে যে শার্ট দেখা গেছে, সেটি তার নিজের নয়। সিদ্ধার্থ শার্টটি আড়ং থেকে কিনেছেন। একই ধরনের শার্ট অন্য কেউও আড়ং থেকে কিনতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আড়ংয়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, আলোচিত শার্টটি বর্তমানে তাদের কোনো আউটলেটে নেই। এটি নিয়মিত পণ্যও নয়। কোনো একটি উৎসব উপলক্ষে শার্টটি আনা হয়েছিল। সেটি পূজা বা ঈদ—যেকোনো উৎসব হতে পারে। গত এক থেকে দুই মাসের মধ্যেও শার্টটি কোনো আউটলেটে আসেনি বলে জানান তিনি।
ঘটনার সময় মরদেহ উদ্ধারের স্থানেও সিদ্ধার্থকে দেখা যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে সেখানে থাকা অবস্থায় তার পরনে টি-শার্ট ছিল বলে জানা গেছে। সিদ্ধার্থের কয়েকজন প্রতিবেশী ও বন্ধু জানিয়েছেন, এর আগে তাকে ওই শার্ট পরতে কখনো দেখেননি তারা।
পরে পুলিশ যখন সিদ্ধার্থকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে, তখন তার পরনে দেখা যায় পুলিশ কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তীর শার্টের সঙ্গে একই রং ও নকশার আরেকটি শার্ট। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সনাতন চক্রবর্তী জানান, একই শার্ট একাধিক ব্যক্তি পরতে পারেন। ভিডিও বার্তাতেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের সময় রংপুরভিত্তিক বিভিন্ন স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় সরাসরি সম্প্রচার করা ভিডিওতে মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তিকে ওই শার্ট পরে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায়। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের শরীরে নখের আঁচড়ের চিহ্ন দেখা যায়। বিশেষ করে গোয়েন্দা পুলিশের এক সূত্র সিদ্ধার্থের শরীরে নখের আঁচড় থাকার তথ্য দেয়। এরপর গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে তার পোশাক খুলে শরীর পরীক্ষা করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশের সীমান্ত নামের এক ব্যক্তির বাসায় বসে সেবন করেন।
পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তবে এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, ইয়াবা সেবনের জন্য দেবুর নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের ফাঁকা জায়গা ও ছাদ ব্যবহার না করে তারা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন।
এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পুলিশের ভালো কাজের প্রশংসা এবং নেতিবাচক কাজের সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের ওপর আস্থা রাখা যেতে পারে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।