খেলা
সুপার ওভারের নাটকীয়তায় বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ, তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান
রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেও শিরোপার দেখা পেল না বাংলাদেশ ‘এ’ দল। দোহায় অনুষ্ঠিত শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে নির্ধারিত ওভারে টাই করার পর ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানে মাত্র ৭ রানের লক্ষ্য ২ বল আগে পেরিয়ে গিয়ে রেকর্ড তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান ‘এ’ দল।
রিপন মন্ডল ও রাকিবুল হাসানের ধারাবাহিক বোলিং সৌজন্যে পাকিস্তানকে মাত্র ১২৫ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশ। দোহায় ফাইনালের মঞ্চে এমন শুরুর পরও ব্যাটিং ধস দলকে বিপাকে ফেলে। নির্ধারিত ২০ ওভারে সমান ১২৫ রান তুলেই ম্যাচে ফিরে বাংলাদেশ।
১২৬ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে হাবিবুর রহমান সোহান ঝড়ো সূচনা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে টাইগাররা। সোহানের ২৬ রানের ইনিংসটি যেমন উজ্জ্বল ছিল, তেমনি তার বিদায়ের পরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে থাকে। দ্রুত আউট হন জিসান আলম, অঙ্কন, আকবর আলি ও ইয়াসির রাব্বি। স্কোর ৪৮/৫ হওয়ায় ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে যায়।
এরপর পরপর ফেরত যান মাহফুজ রাব্বি ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। ৯০ রানে ৮ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান রাকিবুল, সাকলাইন ও রিপন মন্ডল। শেষ বিকেল পর্যন্ত লড়াই করে ম্যাচটিকে সুপার ওভারের দিকে নিয়ে যান তারা। রাকিবুল ২৪, সাকলাইন ১৬ এবং রিপন ১১ রানে অপরাজিত থাকেন।
সুপার ওভারে প্রথম বলেই সিঙ্গেল নেন হাবিবুর রহমান সোহান। কিন্তু দ্বিতীয় বলেই আউট হন সাকলাইন। এরপর পাকিস্তানি পেসার আহমেদ দানিয়ালের একটি ওয়াইড ও একটি বাই–৪ বাংলাদেশের স্কোরকে খানিকটা এগিয়ে নিলেও পরের বলেই জিসান বোল্ড হয়ে যান। ফলে বাংলাদেশ থামে মাত্র ৬ রানে।
লক্ষ্য রক্ষায় বল হাতে আসেন রিপন মন্ডল। প্রথম দুই বলে দুর্দান্ত দুটি ইয়র্কার করেও রান আটকাতে পারেননি; দুবারই সিঙ্গেল নেয় পাকিস্তান। তৃতীয় বলটি ফুল টস হয়ে গেলে স্কয়ার লেগে চার হাঁকান সাদ মাসুদ। পরের বলে সিঙ্গেল নিয়েই পাকিস্তান নিশ্চিত করে তাদের রেকর্ড তৃতীয় শিরোপা।
২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেও পাকিস্তানের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সেই একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আবারও ফাইনাল হারার বেদনাই ফিরল জুনিয়র টাইগারদের জন্য।
পূর্বের ছয় আসর ‘ইমার্জিং এশিয়া কাপ’ নামে হলেও এবারের আসরটি নতুন পরিচয়ে-‘রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপ’। পূর্ণ সদস্য দেশের ‘এ’ দল ও সহযোগী দেশগুলোর জাতীয় দল নিয়ে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে।
পাকিস্তানের পক্ষে ফাইনালে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন সাদ মাসুদ। বল হাতে সুফিয়ান মুকিম মুগ্ধ করেছেন ১১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে। বাংলাদেশের হয়ে রিপন মন্ডল ৩ এবং রাকিবুল হাসান ২ উইকেট শিকার করেন।