খেলা

‘আর্জেন্টিনাবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের’ তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে মিশরের কোচ হোসাম


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০২:১০ পিএম

‘আর্জেন্টিনাবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের’ তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে মিশরের কোচ হোসাম
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। দেশটির জনপ্রিয় সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল তদো নোতিসিয়াস ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী’ প্রচারণার অভিযোগ তুলে ১০ জন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যা ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় ‘লা আলবিসেলেস্তে’দের। এর আগে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান, কেপ ভার্দে, মিশর, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনালে উঠেছিল দলটি। তবে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পরই এই বিতর্কের সূত্রপাত।

প্রকাশিত তালিকার শীর্ষে রয়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা-এর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ম্যাচে একটি নিশ্চিত পেনাল্টি দেওয়া হয়নি এবং একটি বৈধ গোল বাতিল করা হয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সবকিছু কি বাণিজ্যিক স্বার্থে করা হচ্ছে, নাকি নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়কে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।

তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ব্রিটিশ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব পিয়ার্স মরগান-ও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের আচরণের কড়া সমালোচনা করে তিনি তাদের ‘সহিংস দল’ বলেও মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্যের জবাবে অনুষ্ঠানের উপস্থাপক জোনাথন ফিয়ালি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এ ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

এছাড়া তালিকায় রয়েছেন মার্কিন অভিনেতা সামুয়েল এল. জ্যাকসন, যিনি আগে আর্জেন্টিনাকে ‘সবচেয়ে বর্ণবাদী দেশ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। একই সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা আইশোস্পিড, যিনি ফাইনালে স্পেনের জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সঙ্গে তর্কে জড়ান।

তালিকার অন্যদের মধ্যে আছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম, স্প্যানিশ গায়িকা রোসালিয়া এবং চিলির অভিনেতা পেদ্রো পাসকেল।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে জাতীয় দলের বিরুদ্ধে অন্যায্য সমালোচনার জবাব হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বলছেন, সাধারণ সমালোচনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরা অতিরঞ্জিত পদক্ষেপ।