সোমবার, ২৭ মে ২০২৪ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
Dhaka Prokash

বঙ্গবন্ধু মানুষের ভালোবাসার মূল্য দিয়েছেন জীবন দিয়ে

বাঙালি জাতিস্বত্তার ইতিহাসে বঙ্গুবন্ধু এক অক্ষয় নাম, এক প্রজ্বলিত শিখা। এদেশের জন মানুষের মুক্তি বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই এসেছিল। বিশ্বের কোনো আধুনিক রাষ্ট্রই নিজের আপন পরিচয়ের বাইরে থাকতে পারে না। একমাত্র ঔপনিবেশিক শক্তির কাছে নতজানু রাষ্ট্রই নিজ আত্মপরিচয়কে শৃঙ্খলিত করে রাখতে পারে। বঙ্গবন্ধু তার জাতিসত্তার পরিচয়ে ছিলেন আপসহীন। পাকিস্তান সরকারের নাকের ডগায় তিনি উচ্চারণ করেছিলেন, পূর্ব পাকিস্তান না বলে আমাদের ভূখণ্ডকে পূর্ববাংলা বলুন। পূর্ব পাকিস্তান বলতে হলে বাঙালির গণভোটের ব্যবস্থা করুন। তিনি সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় পরিষ্কারভাবে বলেছিলেন দেশটির নাম রাখা হবে 'বাংলাদেশ।’

ইতিহাসে তিনিই অমর যিনি সমগ্র জাতিকে স্বপ্ন দেখাতে পারেন-ইতিহাস তারই পক্ষে যিনি সময়ের বিচারে নিজেকে যোগ্য বলে প্রমাণ করতে পারেন। এ সংজ্ঞায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইতিহাসের সেই মহামানব সময় যাকে সৃষ্টি করেনি, যিনি সময়কে নিজের করতলে নিয়ে এসেছেন। যিনি কঠিন স্বরে নিজস্ব ভঙ্গিতে উচ্চারণ করেছিলেন সর্বকালের উপযোগী এবং সব দেশের জন্য প্রযোজ্য একটি অমর পংক্তি ‘আর দাবায়ে রাখবার পারবা না’। বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের ভাষণে এই কথাটি উচ্চারণ করেছিলেন। বর্তমান বিশ্বের আধুনিক রাষ্ট্রসমূহের সামনে এই পংক্তি একটি মৌলিক দর্শন। কোনো দেশই পদানত হয়ে থাকার ন্যূনতম শর্ত গ্রহণ করে না। বঙ্গবন্ধু জাতির সামনে এই অমোঘ পংক্তি উচ্চারণ করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে বাঙালির জীবনে এই ঘটনার আর কোনো দিন পুনরাবৃত্তি হবে না।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন। তিনি তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থে লিখেছেন: ‘আমার কেবিনের একটা জানালা ছিল ওয়ার্ডের দিকে। আমি ওদের রাত একটার পরে আসতে বললাম। ...রাতে কেউ আসে না বলে কেউ কিছু বলত না। পুলিশরা চুপচাপ পড়ে থাকে, কারণ জানে আমি ভাগব না। গোয়েন্দা কর্মচারী একপাশে বসে ঝিমায়। বারান্দায় বসে আলাপ হল এবং আমি বললাম, সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করতে। ... আবার ষড়যন্ত্র চলছে বাংলা ভাষার দাবিকে নস্যাৎ করার। এখন প্রতিবাদ না করলে কেন্দ্রীয় আইনসভায় মুসলিম লীগ উর্দুর পক্ষে প্রস্তাব পাস করে নেবে। নাজিমুদ্দীন সাহেব উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার কথাই বলেন নাই, অনেক নতুন নতুন যুক্তিতর্ক দেখিয়েছেন।...সেখানেই ঠিক হল আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করা হবে এবং সভা করে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করতে হবে। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেই রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের কনভেনর করতে হবে। ফেব্রুয়ারি থেকেই জনমত সৃষ্টি করা শুরু হবে। আমি আরও বললাম, ‘আমিও আমার মুক্তির দাবি করে ১৬ই ফেব্রুয়ারি থেকে অনশন ধর্মঘট শুরু করব।’

মাতৃভাষার মর্যাদাকে তিনি রাজনৈতিক অধিকার বলে বুঝেছিলেন। এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে ধ্বংস হয় মাতৃভাষার গৌরব। আজ বিশ্বের দরবারে ভাষার জন্য প্রাণদানকারী দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। ইউনেস্কো ঘোষণা দিয়েছে এই দিবস পালন করার জন্য। আধুনিক রাষ্ট্র তার অর্জনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের মধ্যে দেখতে চায়। বাংলাদেশ সেই অর্জনে জয়ী হয়েছে। এই অর্জনের নেপথ্য ভূমিকায় বঙ্গবন্ধুর অবদান স্মরণীয়।
‘দুঃখী মানুষ’ বঙ্গবন্ধুর জীবনে দুটি শব্দ মাত্র ছিল না। তিনি তার কৈশোর-তারুণ্যের সূচনা থেকেই দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর অঙ্গীকার নিয়ে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিলেন। স্কুল থেকে ফেরার পথে দরিদ্র বৃদ্ধ মানুষটিকে শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিজের গায়ের চাদর দিয়েছিলেন। গরিব ছাত্র বন্ধুকে ছাতা দিয়েছিলেন। অভাবের সময় অসহায় মানুষদের বাবার ধানের গোলা থেকে ধান দিতেন। এ সবকিছুই তাঁর কোনো তাত্তি্বক ধারণা থেকে পাওয়া বিষয় নয়। তার সহজাত প্রবণতার মধ্যেই বিষয়টি ছিল।

ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল তার জীবন দর্শনের একটি অন্যতম দিক। ছাত্র জীবন থেকে তিনি সাম্প্রদায়িতকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। যে কোনো আধুনিক রাষ্ট্রের সংজ্ঞায় এটি একটি মৌলিক শর্ত। ১৯৪৬ সালে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধলে তিনি দাঙ্গা বিধ্বস্ত এলাকায় রিলিফের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। বিপন্ন মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ভারতের বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ ভবতোষ দত্ত। তিনি ১৯৪৩ সাল থেকে ইসলামিয়া কলেজে শিক্ষকতা করতেন। তার ‘ষাট দশক’ শিরোনামের বইয়ে তিনি দাঙ্গার সময়ের স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন: ‘ইসলামিয়ার ছাত্ররা যে আমাদের জন্য কতটা করতে পারত তার প্রমাণ পেলাম ১৯৪৬-এর রক্তাক্ত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময়। বালিগঞ্জ থেকে ইসলামিয়া কলেজের রাস্তায় পদে পদে বিপদ। এই রাস্তা আমাদের ছাত্ররা পার করে দিত। ওরা বালিগঞ্জের কাছে অপেক্ষা করত আর সেখান থেকে ওয়েলেসলি স্ট্রিটে কলেজে নিয়ে যেত। আবার সেভাবেই ফিরিয়ে দিতে যেত। এখানে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি ইসলামিয়া কলেজের সেইসব মুসলমান ছাত্রদের, যারা আমাদের সঙ্গে করে নিয়ে বিপজ্জনক এলাকাটা পার করে দিতেন। এইসব ছাত্রদের একজনের নাম ছিল শেখ মুজিবুর রহমান।’

অন্যদিকে, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করেছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীসভায় নারীদের মন্ত্রীত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৭৪ সালে মুসলিম বিবাহ এবং বিবাহ রেজিস্ট্রিকরণ আইন প্রণীত হয়েছিল। সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে নারী-পুরুষের সমতার কথা উল্লেখ আছে। আজকের বাংলাদেশের স্বপ্ন সহিংসতা নয়, নারী-পুরুষের সমতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য।
কিশোর বয়স থেকেই তিনি মানুষের কথা ভেবেছেন। তাদের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখেছেন। সেই বঞ্চিত মানুষদের কথা মনে রেখেই শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা চন্তিা করেন।

মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি যে বিপুল কাজ করতে চেয়েছিলেন সেটি ছিল পর্বতসমান কাজ। তারপরও তিনি সব চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। দেশি-বিদেশি চক্রান্তরে সামনে বঙ্গবন্ধু নির্ভীক ছিলেন। নিজের জীবনের জন্য ভীত ছিলেন না। বাঙালি জাতিকে অবিশ্বাস করার মতো মানসিক দীনতাও তার ছিল না। তিনি মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানোকে পাপ মনে করতেন। মানুষকে ভালোবাসার মূল্য দিয়েছেন নিজের জীবন দিয়ে।

আধুনিক রাষ্ট্রের মুল চিন্তায় বঙ্গবন্ধু ছিলেন দূরদর্শী এবং আধুনিক মনের অধিকারী। তিনি কখনো পশ্চাৎপদ মনোভাব নিয়ে দেশ ও জাতির ব্যাখ্যা করেননি। তার সামনের সবটুকু ছিল প্রসারিত। তার একটি অসাধারণ উক্তি ‘একজন মানুষ হিসাবে সমগ্র মানবজাতি নিয়ে আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসাবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিবিড় উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।’

সেলিনা হোসেন: বাংলা একাডেমির সভাপতি ও কথাসাহিত্যিক

Header Ad

ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডব: বিদ্যুৎহীন উপকূলের দেড় ১ কোটি পরিবার

ছবি: সংগৃহীত

ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর প্রায় দেড় কোটি গ্রাহকের সংযোগ বন্ধ রেখেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। ফলে অনেক এলাকা ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা যাবত বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। ঝড় পুরোপুরি থেমে গেলে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় আছেন পল্লীবিদ্যুতের কর্মীরা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) পরিচালক (কারিগরি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে দুর্ঘটনা এড়াতে সোমবার (২৭ মে) দুপুর ১২টা পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১ কোটি ৫৫ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডব কমে যাওয়ার পর দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে দিতে আমাদের কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এলাকায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে এর পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (প্ল্যানিং অ্যান্ড অপারেশন) বিশ্বনাথ শিকদার বলেন, উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্রচণ্ড ঝড় বয়ে যাওয়ায় সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরিশাল জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধিকাংশ গ্রাহকের সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। আরও কয়েকটি জেলায় আংশিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে হয়তো দেড় কোটি গ্রাহক এখন বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছেন।

পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা বলছেন, উপকূলীয় কয়েকটি জেলার সাগর তীরবর্তী উপজেলাগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ারে তলিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের লাইন চালু থাকলে জানমালের ক্ষতি হতে পারে। আবার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে, যা মেরামত করতে অন্তত ৭ দিন সময় লাগবে। এসব দিক বিবেচনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

কুমিল্লায় ভবন ধসে শ্রেণিকক্ষেই প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর

কুমিল্লায় ভবন ধসে শ্রেণিকক্ষেই এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় বিদ্যালয়ে ক্লাসরত অবস্থায় পার্শ্ববর্তী নির্মাণাধীন সাততলা ভবনের দেয়াল (লিংটার) ধসে সাইফুল ইসলাম সাগর (১২) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২৭ মে) বেলা পৌনে ১১টার দিকে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার নোয়াগাঁও চৌমুহনী এলাকায় নুর আইডিয়াল স্কুলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত স্কুলছাত্র সাইফুল ইসলাম সাগর ওই প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। সে শাকতলা এলাকার অলী আহমেদের ছেলে।

নূর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. আশিকুর রহমান বলেন, বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস চলছিল। হঠাৎ স্কুলের পূর্বপাশে নির্মাণাধীন একটি ভবনের ৭তলার দেওয়ালের একটি অংশ স্কুলের টিনের চালায় ভেঙে পড়ে। এতে স্কুলের চেয়ার-টেবিলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ সময় ইটের আঘাতে সাইফুল ইসলাম সাগর গুরুতর আহত হয়। দ্রুত তাকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

প্রধান শিক্ষক আশিকুর রহমানের অভিযোগ, কোনো প্রকার সেফটি ছাড়াই ভবন কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজ চালাচ্ছিল। তাদের অবহেলার কারণেই আজ শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাদেমুল বাহার জাগো নিউজকে বলেন, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হেরে গেলেন নিপুণ, শিল্পী সমিতির সম্পাদক পদ ফিরে পেলেন ডিপজল

নিপুণ আক্তার এবং ডিপজল। ছবি: সংগৃহীত

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এবারের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোয়ার হোসেন ডিপজলের দায়িত্ব পালনে হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত।

সোমবার (২৭ মে) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম হাইকোর্ট থেকে দেওয়া আদেশ স্থগিতের রায় দেন।

এর ফলে সমিতির সম্পাদক পদে ডিপজলের দায়িত্ব পালনে আর কোনো বাধা রইল না। টিকল না সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিপুণ আক্তারের করা রিট। আইনি লড়াইয়ে ডিপজলের কাছে হেরে গেলেন তিনি।

নিপুণের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২০ মে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। সেই পদ ফিরে পেতে শনিবার চেম্বার আদালতে আবেদন করেন ডিপজল। সোমবার তিনি রায় পেলেন নিজের পক্ষে।

গত ১৫ মে নিপুণের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ চন্দ্র রায় হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। তাতে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ আনার পাশাপাশি নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং মিশা-ডিপজলের নেতৃত্বাধীন কমিটির দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।

সেই রিটের শুনানিতে গত ২০ মে ডিপজলের সাধারণ সম্পাদক পদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ। সেই সঙ্গে পরাজিত প্রার্থী নিপুণ আক্তারের অভিযোগ তদন্তের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশও দেন।

গত ১৯ এপ্রিল এফডিসিতে অনুষ্ঠিত হয় শিল্পী সমিতির ২০২৪-২৬ মেয়াদের নির্বাচন। ফলাফল ঘোষণা হয় পরদিন সকালে। তাতে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন মিশা সওদাগর। অন্যদিকে, নিপুণকে ১৬ ভোটে হারিয়ে সাধারণ সম্পাদক হন মনোয়ার হোসেন ডিপজল।

সে সময় বিজয়ী প্রার্থীদের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে অভিনন্দন জানান বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক নিপুণ আক্তার।

এর প্রায় এক মাস পর হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। স্থগিত হয়ে যায় সাধারণ সম্পাদক পদে ডিপজলের দায়িত্ব পালন। চেম্বার আদালতের রায়ে আবার তা ফিরেও পেলেন।

সর্বশেষ সংবাদ

ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডব: বিদ্যুৎহীন উপকূলের দেড় ১ কোটি পরিবার
কুমিল্লায় ভবন ধসে শ্রেণিকক্ষেই প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর
হেরে গেলেন নিপুণ, শিল্পী সমিতির সম্পাদক পদ ফিরে পেলেন ডিপজল
পাপুয়া নিউ গিনিতে ভূমিধস: জীবিত সমাহিত দুই হাজারেরও বেশি মানুষ
বিএনপি সহযোগিতার নামে ফটোশেসন করে: ওবায়দুল কাদের
ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে ১৯ উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত
ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডব: নিহত বেড়ে ১০
গোবিন্দগঞ্জে ৮ হাজার ৮৮৪ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
‘রেমালের কেন্দ্রভাগ বিকেলের মধ্যে ঢাকায় ঢুকবে’
ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন আহমাদিনেজাদ
ঢাকায় রেমালের প্রভাব, দমকা বাতাসের সঙ্গে ঝরছে বৃষ্টি
টাঙ্গাইলে ৪ লাখ ৯৩ হাজার শিশুকে খাওয়ানো হবে ‘ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল’
যুক্তরাষ্ট্রে টর্নেডোর তাণ্ডব, ১৫ জনের মৃত্যু
ঘূর্ণিঝড় রেমালে দেশের বিভিন্ন জেলায় ৬ জনের মৃত্যু
বিভিন্ন খালে জাল ফেলে এখনও মেলেনি এমপি আনারের লাশ
ভয়াবহ ইসরাইলি হামলা, গাজায় নারী-শিশুসহ নিহত ৩৫
৪৫ হাজার হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন, ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু
উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হচ্ছে ‘রেমাল’
মধ্যরাতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন
সরকার তারেককে ফিরিয়ে এনে অবশ্যই আদালতের রায় কার্যকর করবে: প্রধানমন্ত্রী