রাজধানী
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘হাসিনা পালায় না’ গেমে উচ্ছ্বসিত যুবক-বৃদ্ধ
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র প্রতিরোধের মুখে দেশ ছেড়ে পালায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ নেতারা—এমনই দাবি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর উদ্যোক্তাদের। সেই ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ স্মরণে এবার আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী নানা অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ দিনভর রূপ নেয় এক গণউৎসবে, যেখানে গান, নাটক, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও প্রতীকী গেম আয়োজনের মধ্য দিয়ে জনতার ঢল নামে রাজপথে। যেখানে যুবক থেকে বৃদ্ধ সবার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সবচেয়ে আলোচিত আয়োজন ছিল প্রতীকী একটি ভিডিও গেম—‘হাসিনা পালায় না’। এতে ভার্চুয়ালি শেখ হাসিনাকে ধাওয়া করার অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা। গেমটি ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ লক্ষ্য করা যায়। জনতার ভাষায়, শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার সেই মুহূর্তকে কল্পনায় হলেও বাস্তবের মতো উপভোগ করতে পেরে তারা উচ্ছ্বসিত।
গেম জোনে বাজানো হচ্ছে শেখ হাসিনার পুরনো বক্তব্য, যেগুলো ঘিরে দর্শনার্থীরা প্রকাশ্যে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করছেন। কেউ কেউ বলছেন, যেসব কথা এক সময় মানুষ মুখ ফুটে বলতে ভয় পেত, সেগুলোরই এখন চলছে প্রকাশ্য সমালোচনা—এটাই বর্তমান বাস্তবতার প্রতিফলন।
দর্শনার্থী মিজানুল ইসলাম বলেন, “৫ আগস্ট হাসিনা সবাইকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গেছে। তখন তাকে সরাসরি ধাওয়া করার সুযোগ ছিল না। কিন্তু আজ এই গেমের মাধ্যমে সেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারছি, এটা অনেক আনন্দের।”
আরেক দর্শনার্থী সুমাইয়া শহীদ বলেন, “ক্ষমতায় থাকাকালে যা ইচ্ছে তাই বলতেন। তখন কেউ কিছু বললেই হুমকি-ধমকি আসত। আজ মানুষ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করছে প্রকাশ্যে—এটাই তার পতনের প্রতিচ্ছবি।”
গান, গেম আর মানুষের সরব উপস্থিতিতে পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ রূপ নেয় এক উৎসবমুখর গণজাগরণে। চারপাশ জুড়ে স্লোগান, হাস্যরস আর উদ্দীপনার ঢেউ। দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে, যেখানে অংশ নিচ্ছে দেশের বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। তাঁরা পরিবেশন করছেন মুক্তিযুদ্ধ, গণআন্দোলন ও দেশাত্মবোধক গান। বিকেলে অনুষ্ঠানের মূল পর্বে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পাঠ করবেন ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’—যা এ আন্দোলনের নতুন দিকচিহ্ন বলেই দাবি আয়োজকদের।
এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান কেবল স্মরণ নয়, বরং একটি প্রতিবাদ ও উৎসবের মিলনমেলা—যেখানে জনগণের কণ্ঠস্বর উঠে এসেছে শিল্প-সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে।