রাজধানী
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা মামলায় প্রধান আসামির জামিন
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় নিউ গিনি প্রোপার্টিজের একটি প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রধান আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ জামিন পেয়েছেন। সোমবার ঢাকার একটি আদালত শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত শাহরিয়ার মাহমুদের জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় নিউ গিনি প্রোপার্টিজের প্রকল্পটিতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রকল্পের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পূর্বশত্রুতার জের ধরে আসামিরা প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে প্রায় ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এ সময় প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজ ও নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে হামলাকারীরা প্রকল্পের প্রধান ফটক, কাচ, কাঁচি গেট ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করেন। পাশাপাশি নগদ টাকা, নির্মাণসামগ্রী, মোটরবাইকসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পের প্রধান ফটক, থাই গ্লাস ও কাঁচি গেট ভাঙচুরে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া অফিসের কম্পিউটার, মনিটর, ফ্রিজ, টেলিভিশন ও আলমারিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে আরও প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের অফিসকক্ষের লকার ভেঙে নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য রাখা ২৫ লাখ টাকা, বিভিন্ন মাপের প্রায় ২০০ ফুট তার, যার মূল্য ৫৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৩ টন রড এবং এক ফ্ল্যাটমালিকের চার লাখ টাকা মূল্যের একটি স্কুটার নিয়ে যাওয়া হয়। এসব ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং লুট হওয়া মালামালের মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস স্টুডিও’তেও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, প্রকল্পের প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্লোরে অবস্থিত স্টুডিওতে অনধিকার প্রবেশ করে দুটি টেলিভিশন, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), মূল্যবান আসবাব এবং বিভিন্ন শুটিং ও কারিগরি সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। এতে আনুমানিক ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে শাহরিয়ার মাহমুদ (৬০), মো. আবুল কাশেম (৫৩), মো. বাবুল হোসেন (৪৯), অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী (৬৭), মোহাম্মদ সাহিনুজ্জামান (৪৭), মো. মতিউর রহমান (৪৮), মজিবুর রহমান (৪৭), নুরুল ইসলাম (৫১), মিজানুর রহমান (৫৯), এমকে আজাদ (৫৪), মো. মামুন (৩২), মো. আসলাম (২৪) ও মুন্না (২৯)-এই ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আদালতের এই আদেশের ফলে মামলার প্রধান আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিনে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। তবে মামলার অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। এজাহারে উত্থাপিত আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ও লুটপাটের বিবরণ বাদীপক্ষের অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।