রাজধানী
ভেঙে ফেলা হয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধ্বংসস্তূপের পাশেই চলছে শিশুদের টিকাদান
রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ এফপি সেন্টারের ভবন ভেঙে ফেলা ও চিকিৎসাসামগ্রী লুটের পরও বন্ধ হয়নি স্বাস্থ্যসেবা। ধ্বংসস্তূপের পাশের একটি সরু গলিতে অস্থায়ীভাবে বসে শিশুদের হাম রুবেলা টিকাদানসহ সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।
রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রটির মূল ফটক বন্ধ রয়েছে। ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা ভবনের ধ্বংসাবশেষ। গেটের বাইরে টেবিল ও চেয়ার বসিয়ে স্থানীয় শিশুদের নিয়মিত টিকা এবং বিশেষ হাম রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির টিকা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটি দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মুখোশধারী ২০০ থেকে ২৫০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রটিতে হামলা চালায়। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন ভেঙে ফেলে। পরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্রিজ, ওষুধ, টিকা, টাকা, আসবাবসহ বিভিন্ন সামগ্রী কয়েকটি ট্রাকে করে নিয়ে যায়। হামলার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টানানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রাড্ডা এমসিএইচ এফপি সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অংশীদারত্বে দরিদ্র ও অসহায় নারী ও শিশুদের বিনা মূল্যে টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। কেন্দ্রটির কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির জমি দখলের উদ্দেশ্যেই হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম চৌধুরী তার দুই বছর বয়সী ছেলে জায়ান চৌধুরীকে হামের টিকা দিতে কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, তার বাবা ছোটবেলায় তাকে এখান থেকে টিকা দিয়েছেন। পরে তার বড় ছেলেকেও তিনি এই কেন্দ্র থেকে টিকা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আসছে। তাই হঠাৎ কেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় তারা কষ্ট পেয়েছেন। দ্রুত কেন্দ্রটি সংস্কার করে আবার স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা চালুর দাবি জানান তিনি।
রাড্ডা এমসিএইচ এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। বর্তমানে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির সব কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে পরিবার পরিকল্পনার সব সামগ্রী লুট হয়ে যাওয়ায় এই সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। নারীরা এলে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রের গেটে দেওয়া সিলগালা খুলে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। সিলগালা খুলে দেওয়া হলে কেন্দ্রের ভেতরে আবার স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তবে বাইরে বসে আর কতদিন স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।