শিক্ষা

প্রাথমিক শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু, ৬৫ হাজার স্কুলে ক্লাস বন্ধ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫, ১১:০৮ এএম

প্রাথমিক শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু, ৬৫ হাজার স্কুলে ক্লাস বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক কর্মবিরতি শুরু হয়েছে, এতে প্রায় ৬৫ হাজার স্কুলে ক্লাস বন্ধ পড়েছে। সহকারী শিক্ষকরা দশম গ্রেডে বেতন প্রদানসহ তিন দফা দাবি আদায় এবং শাহবাগে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন।

একই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

শিক্ষক সংগঠন ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মাসুদ শনিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চালাবেন। তিনি আরও জানান, শাহবাগে ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচিতে পুলিশ রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ব্যবহার করলে বহু শিক্ষক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শিক্ষকদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- 

১️. সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন প্রদান।

২. উচ্চতর গ্রেডের জটিলতার স্থায়ী সমাধান।

৩️. সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার। ফলে কর্মবিরতিতে আজ থেকেই এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

এর আগে, চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল সরকার প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডে থাকা শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এই পদক্ষেপে সহকারী শিক্ষকরা বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন।

এদিকে, সহকারী শিক্ষকদের আরেকটি অংশ ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময়সীমা দিয়েছে। তাদের তিন দাবি বাস্তবায়ন না হলে ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

তারা আরও জানিয়েছে, ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পরীক্ষা বর্জন ও আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাবেন শিক্ষকরা।