শিক্ষা

বিওয়াইএলসি গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি ২০২৬ অনুষ্ঠিত


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

বিওয়াইএলসি গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি ২০২৬ অনুষ্ঠিত
ছবি: বিওয়াইএলসি

বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) তাদের সিগনেচার লিডারশিপ প্রোগ্রাম বিল্ডিং ব্রিজেস থ্রু লিডারশিপ ট্রেনিং (বিবিএলটি) এবং এর জুনিয়র সংস্করণ বিবিএলটিজে-এর ২০২৬ গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ নেদারল্যান্ডস দূতাবাস।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত বোরিস ভ্যান বোমেল।

এ ছাড়া বিওয়াইএলসির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারপারসন ইজাজ আহমেদসহ বাংলা-মাধ্যম, ইংরেজি-মাধ্যম এবং মাদ্রাসা পটভূমির ৫২১ জন গ্র্যাজুয়েট, তাদের অভিভাবক, বিশিষ্ট অতিথি ও অন্যান্য অংশীজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা নেতৃত্ব, সমালোচনামূলক চিন্তা, সমস্যা সমাধান এবং যোগাযোগের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ধারণার ওপর নিবিড় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, “বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশে বিওয়াইএলসির ভূমিকার জন্য আমি তাদের সাধুবাদ জানাই। তবে মনে রাখবে, এই প্রশিক্ষণ তোমাদের যাত্রার শেষ নয়। এটি শুরু। নেতৃত্ব একটি আজীবন চর্চা, তাই প্রতিদিন নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকো।”

নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত বোরিস ভ্যান বোমেল অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতার ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “আমাদের সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় নেতৃত্ব প্রয়োজন। তরুণদের একসঙ্গে কাজ করা, পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং অর্থবহ পরিবর্তনে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতায় আমাদের সজ্জিত করতে হবে।”

জোনায়েদ সাকি বলেন, “জীবন শুধু আমাদের নিজেদের নিয়ে নয়। নেতৃত্ব শুরু হয় যখন আমরা নিজেদের স্বার্থের আগে সামষ্টিক স্বার্থকে স্থান দিই। আমি আশা করি, আগামী বছরগুলোতে এই গ্র্যাজুয়েটরা এমন নেতৃত্বই চর্চা করবে।”

বিওয়াইএলসির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারপারসন ইজাজ আহমেদ বাংলাদেশের তরুণদের সামনে থাকা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন—জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং গোষ্ঠীকেন্দ্রিক মানসিকতা।

তিনি বলেন, “বিক্ষিপ্ত মনোযোগের এই পৃথিবীতে নেতৃত্বের কাজ হলো, যে বিষয়গুলো তোমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোর প্রতি শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে মনোযোগ দেওয়া। এআই ব্যবহার করো, কিন্তু নিজের চিন্তার দায়িত্ব কখনো এর ওপর ছেড়ে দিও না। ভবিষ্যৎ তাদেরই হবে, যারা এখনও নিজেরা চিন্তা করতে পারে।”

প্রোগ্রামগুলোর অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা ‘লিডারশিপ ইন অ্যাকশন’ প্রকল্প সম্পন্ন করেন। এতে তারা সমালোচনামূলক চিন্তা, যোগাযোগ, দলগত কাজ এবং সমস্যা সমাধানের মতো দক্ষতা প্রয়োগ করে নিজেদের কমিউনিটির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করেন। এআই এবং ক্রমবর্ধমান জলবায়ু চ্যালেঞ্জ দ্বারা প্রভাবিত একটি বিশ্বে তরুণদের পথচলায় এসব মানবিক দক্ষতার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) দেশের প্রথম নেতৃত্ববিষয়ক প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন পটভূমির তরুণদের মধ্যে সংযোগ তৈরি, তাদের নেতৃত্বের দক্ষতায় সজ্জিত করা এবং সরকারি, বেসরকারি ও নাগরিক খাতে উচ্চ প্রভাব তৈরিতে সক্ষম করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে। বিওয়াইএলসির কার্যক্রমের লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী সমাজে সমৃদ্ধি, ন্যায়বিচার এবং অন্তর্ভুক্তি শক্তিশালী করা।