সারাবিশ্ব
চীনে কুখ্যাত মাফিয়া পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড
মিয়ানমারে বছরের পর বছর ধরে প্রতারণা ও খুনের সাথে জড়িত কুখ্যাত মিং পরিবারের ১১ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে চীনের একটি আদালত। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এই রায় ঘোষণা করে, যেখানে মোট ৩৯ জন সদস্য বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পেয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, মিং পরিবার মিয়ানমারের লাউকাই শহর থেকে টেলিযোগাযোগ জালিয়াতি, অবৈধ ক্যাসিনো, মাদক পাচার ও দেহ ব্যবসাসহ বহু অপরাধ সংগঠিত করত।
আদালত জানায়, ২০১৫ সাল থেকে মিং পরিবার প্রায় এক হাজার কোটি ইউয়ান (প্রায় ১৭ হাজার ৬৯ কোটি টাকা) আয় করেছে প্রতারণা ও জুয়া খেলার মাধ্যমে। তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন লাউকাই শহর একসময় চীনা জুয়াড়িদের ক্যাসিনো ও প্রতারণার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে হাজারো বিদেশি প্রলোভনে ফেলে অর্থপাচারের জালে আটকা পড়েছিল।
বিশেষত ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ নামে একটি কম্পাউন্ড ছিল তাদের অন্যতম ঘাঁটি, যেখানে অন্তত ১০ হাজার কর্মী জোরপূর্বক বন্দি ছিলেন এবং পালাতে চাইলে গুলি চালানো হতো। ২০২৩ সালে মিয়ানমার সরকার এই মিং পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে চীনের হাতে তুলে দেয়। ধারণা করা হয়, পরিবারের প্রধান মিং শুয়েচাং আত্মহত্যা করেছেন, আর বাকিরা চীনে এসে অপরাধ স্বীকার করেছেন।
বর্তমানে লাউকাই শহর মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যাদের সঙ্গে চীনের কিছু যোগাযোগ রয়েছে। চীনা পুলিশ ইতোমধ্যে হাজারো প্রতারণাকারীকে গ্রেপ্তার করে মিয়ানমার থেকে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
মিং পরিবারের বিরুদ্ধে এই রায় চীনের সীমান্তবর্তী প্রতারণা চক্র দমনে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিশ্লেষকরা। বেইজিংয়ের চাপের কারণে এই বছরের মধ্যে থাইল্যান্ডও একই রকম ব্যবস্থা নিয়েছে, যদিও এই অবৈধ ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এখন এটি কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারে আংশিকভাবে চালু রয়েছে।