সারাবিশ্ব
হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইনের আঘাতে ডুবল ২,৫০০ কনটেইনারবাহী জাহাজ
হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইনে আঘাতের পর বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ কনটেইনার বহনকারী একটি জাহাজ ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে ইরান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। তবে জাহাজটির ডুবে যাওয়ার ঘটনা এবং এর বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
আইআরজিসির দাবি, জাহাজটি অনুমোদনহীন ও বিপজ্জনক নৌপথ দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। এ সময় এটি একটি নৌমাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এতে জাহাজটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। পরে জাহাজটি ডুবে যায় বলে দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে চোরাচালানের পণ্য পরিবহন করা হচ্ছিল। তবে জাহাজটি কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল, এর নাম কী, কী ধরনের পণ্য বহন করছিল কিংবা কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছিল-এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। জাহাজটিতে কতজন নাবিক ছিলেন এবং এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আইআরজিসি জাহাজটির চলাচলের পথকে অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করলেও এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করার মতো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে জাহাজটির ডুবে যাওয়ার ঘটনা সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তাঝুঁকি
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনাসংক্রান্ত সংস্থা ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথমার্ধে হরমুজ প্রণালিতে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ অজ্ঞাত বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংস্থাটি এসব ঘটনার তদন্তের কথা জানিয়েছে এবং জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং পণ্যের দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে ইরান
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় তৎপর রয়েছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত নৌপথ অনুসরণ এবং আইআরজিসির নৌবাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে, অননুমোদিত পথে চলাচলকারী জাহাজ নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে বলে দাবি করছে ইরান।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, অজ্ঞাত বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এবং নৌমাইনের ঝুঁকি সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সর্বশেষ কনটেইনারবাহী জাহাজটি ডুবে যাওয়ার খবর প্রণালিটি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে জাহাজটির পরিচয়, নাবিকদের অবস্থা এবং দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে না। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতির ওপর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের স্বাভাবিকতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।