জাতীয়

হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে হচ্ছে নীতিমালা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে হচ্ছে নীতিমালা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, বরং এটি সারা দেশের একটি জাতীয় ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসচ্ছল ও দূরদূরান্তের রোগীদের বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করে অনৈতিকভাবে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দালালদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্পষ্টতই অপরাধ। এসব অপতৎপরতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও জানান, সরকারি হাসপাতালের আশপাশে যত্রতত্র বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তোলার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি চিকিৎসকেরা বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হাসপাতালকেন্দ্রিক অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যথাযথ নজরদারি ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব। স্বাস্থ্যসেবার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাস ডেঙ্গুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময়ে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগী যেন নতুন করে এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, দালালদের অপতৎপরতা বন্ধ করা এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।