অপরাধ
স্ত্রী-ছেলেসহ কাদের মির্জার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগে দুদকের ৩ মামলা
স্ত্রী ও ছেলেসহ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নামে ৩ কোটি ৫২ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পদ অর্জন এবং বৈধ আয়ের উৎস ছাড়াই বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ ইদ্রিস। তিনি জানান, সোমবার বিকেলে দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক চিন্ময় চক্রবর্তী বাদী হয়ে মামলাগুলো করেন। মঙ্গলবার সকালে আদালতে মামলার নথি জমা দেওয়া হয়।
আবদুল কাদের মির্জা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি। তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আবদুল কাদের মির্জার নামে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তার স্ত্রী আখতার জাহান বকুলের নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান পেয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া তাদের ছেলে মির্জা মাশরুর কাদের তাশিকের নামে ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল এবং ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বসুরহাট পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবদুল কাদের মির্জা। এ সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, কাদের মির্জার স্ত্রী আখতার জাহান বকুল গৃহিণী। তার বৈধ আয়ের কোনো উৎস না থাকা সত্ত্বেও তার নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক।
অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও মামলার বাদী চিন্ময় চক্রবর্তী বলেন, কমিশনের অনুমোদনের পর তিনটি মামলা করা হয়েছে। তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।