সারাবিশ্ব
ইসরায়েলে হামলার সময় ইরানের কোনও ক্ষেপণাস্ত্রই ঠেকায়নি যুক্তরাষ্ট্র
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা পাল্টাপাল্টি ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। শুরুতে ইসরায়েলের এক সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করেছে।
তবে পরবর্তীতে মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র কোনো ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেনি। নতুন এ তথ্য সামনে আসায় সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে।
বার্তাসংস্থার তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ইরানের কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই যুক্তরাষ্ট্র প্রতিহত করেনি। ফলে ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তার আগের দাবির সঙ্গে এ তথ্যের স্পষ্ট বিরোধ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় ইরানের ছোড়া কোনো ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন বাহিনী প্রতিহত করেনি। যা আগের সংঘাতগুলোর তুলনায় ভিন্ন পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ এর আগে ইরানের হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসরায়েলকে সহায়তা করেছিল।
তবে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখেছিল। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে অন্তত দুইবার কথা বলেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি বহাল থাকার মধ্যেই গত রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের বোমা হামলাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর জেরে ইরান উত্তর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং পরে ইসরায়েলও ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক দফা বিমান হামলা চালায়।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ওই হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েলের পাশাপাশি এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা থাকা দেশগুলোতেও পাল্টা হামলা চালায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছিল। তবে বাস্তবায়ন ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে। যদিও সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে।