সারাবিশ্ব

প্রথম ব্রিফিংয়েই ট্রাম্পকে ‘স্বামী’ বলে বসলেন নতুন মার্কিন প্রেস সচিব


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২০ পিএম

প্রথম ব্রিফিংয়েই ট্রাম্পকে ‘স্বামী’ বলে বসলেন নতুন মার্কিন প্রেস সচিব
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সচিব কেটি যাকারায়া দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই এক বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় নিজের নিয়োগকর্তা ট্রাম্পকে ভুল করে ‘স্বামী’ বলে সম্বোধন করেন তিনি। তার এই মন্তব্যে হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে হাসির রোল পড়ে যায়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি আবারও ট্রাম্পের প্রশংসায় মুখর হন।

গত শুক্রবার ক্যারোলিন লেভিটের উত্তরসূরি হিসেবে কেটি যাকারায়ার নাম ঘোষণা করেন ট্রাম্প। দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক ব্রিফিং রুমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নতুন এই প্রেস সচিব। শুরুতেই ট্রাম্পের প্রশাসনে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজের সম্মানিত বোধ করার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের হয়ে কাজ করার দীর্ঘদিনের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন।

ব্রিফিংয়ের শুরুতে প্রায় ছয় মিনিট ধরে ট্রাম্পের প্রশংসা করেন যাকারায়া। এ সময় গত কয়েক মাসে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও অর্জনের কথা তুলে ধরেন তিনি। তবে লিখিত বক্তব্য পড়ার সময় তাকে কয়েকবার থেমে যেতে দেখা যায়। ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানকে তিনি ‘ঐতিহাসিক একদিনের যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। অন্যদিকে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গও আলোচনায় উঠে আসে।

প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হলে হাতে একটি নোট-কার্ড নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে থাকেন যাকারায়া। প্রথমেই প্রশ্ন করার সুযোগ পান কট্টর ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্ট নিউজের এক প্রতিনিধি। এরপর ফক্স নিউজের সাংবাদিক পিটার ডুসিকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়।

ডুসি জানতে চান, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর ট্রাম্পের অসন্তোষের কারণে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে কি না। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর দিতে পারেননি নতুন প্রেস সচিব। বিষয়টি পরে জানাবেন বলে জানান তিনি।

এরপর ডেইলি মেইলের এক সাংবাদিক জানতে চান, গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলকে ট্রাম্প বরখাস্ত করার কথা ভাবছেন কি না। গিলফয়েল ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপিকা এবং ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সাবেক বাগ্‌দত্তা। তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে।

এ প্রশ্নের উত্তরে যাকারায়া জানান, গিলফয়েলকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে এর পরই ডেইলি মেইলের সাংবাদিক আরেকটি প্রশ্ন করেন, যা সামলাতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন নতুন প্রেস সচিব।

সাংবাদিক জানতে চান, তার পূর্বসূরি ক্যারোলিন লেভিট দুই সন্তানের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি প্রেস সচিবের কঠিন কাজ চালিয়ে যেতে সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। সেখানে চার সন্তানের মা হয়ে যাকারায়া কীভাবে এই ব্যস্ত ও চাপপূর্ণ দায়িত্ব সামলাবেন?

জবাবে যাকারায়া বলেন, সন্তানদের সঙ্গে সন্ধ্যা কাটাতে না পারার বিষয়টি তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এরপরই কথা বলতে গিয়ে নিজের নিয়োগকর্তা ও স্বামীর প্রসঙ্গ গুলিয়ে ফেলেন তিনি। একপর্যায়ে বলে বসেন, ‘তাই আমার প্রেসিডেন্ট, ক্ষমা করবেন, আমার স্বামী বাইরে আছেন।’

তার মুখে এমন মন্তব্য শুনে ব্রিফিং রুমে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে হাসির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ট্রাম্পের প্রশংসা শুরু করেন তিনি। ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে পরিবারবান্ধব প্রেসিডেন্ট’ বলেও উল্লেখ করেন নতুন এই প্রেস সচিব।

যাকারায়া আরও বলেন, ট্রাম্প পরিবার ও সন্তান রয়েছে-এমন নারীদের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে আস্থা দেখিয়েছেন। চার সন্তানের মা হওয়া সত্ত্বেও প্রেস সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য ট্রাম্প তার ওপর আস্থা রেখেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এই আস্থাই প্রমাণ করে যে তিনি দায়িত্বটি পালনের যোগ্য।

ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে দ্রুত সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন যাকারায়া। এ সময় তিনি জানান, ট্রাম্প আলাস্কায় একটি ঐতিহাসিক সফরের উদ্দেশ্যে মেরিন ওয়ানে উঠবেন। সাংবাদিকদের প্রশ্ন থাকলে তারা বাইরে গিয়ে সরাসরি প্রেসিডেন্টকে করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই সময় ট্রাম্পের আলাস্কা সফরে রওনা হওয়ার কোনো নির্ধারিত সূচি বা পরিকল্পনা ছিল না। ফলে প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই প্রেসিডেন্টকে ভুল করে ‘স্বামী’ বলে সম্বোধন করা এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নতুন প্রেস সচিবকে ঘিরে হাস্যরসের জন্ম দেয়।