জাতীয়

তিন দেশ থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনবে সরকার, অনুমোদন ক্রয় কমিটির


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৯ পিএম

তিন দেশ থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনবে সরকার, অনুমোদন ক্রয় কমিটির
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে মোট ৯৬৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকার ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন রাসায়নিক সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রাশিয়া ও কানাডা থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কেনা হবে। সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তির আওতায় এসব সার আমদানি করা হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সার আমদানির প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী থাইল্যান্ড থেকে অনলাইনে বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ) থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনা হবে। এ সার আমদানিতে ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার ৪৫০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির স্বাক্ষরিত রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় অষ্টম লটে এসব সার আমদানি করা হবে।

অন্যদিকে, কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (সিসিসি) থেকে দুই লটে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ লটে প্রতিবার ৪০ হাজার মেট্রিক টন করে সার কেনা হবে। প্রতিটি লটে ব্যয় হবে ১৮৮ কোটি ৮৯ লাখ ৫৭ হাজার ২০০ টাকা। সে হিসাবে দুই লটে মোট ব্যয় হবে ৩৭৭ কোটি ৭৯ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৩৮২ দশমিক ৩৮ মার্কিন ডলার। বিএডিসি ও কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় এসব সার আমদানি করা হবে।

এ ছাড়া সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান মা’আদেন থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের পঞ্চম লটে এ সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৪২৫ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৬১ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার। বিএডিসি ও মা’আদেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় এ সার আমদানি করা হবে।

সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি খাতে সারের চাহিদা পূরণে আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এমওপি ও ডিএপি সার ফসলের পুষ্টি সরবরাহ এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কৃষি মৌসুমে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষকদের চাহিদা পূরণে এসব সার আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।