সারাদেশ

বিএনপি নেতার বিধবা স্ত্রীর পাশে জামায়াত, স্বাবলম্বী করতে দিল সেলাই মেশিন


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৬ এএম

বিএনপি নেতার বিধবা স্ত্রীর পাশে জামায়াত, স্বাবলম্বী করতে দিল সেলাই মেশিন
ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রয়াত বিএনপি নেতা মো. সাইফুল ইসলামের বিধবা স্ত্রী ঝুমা আক্তারকে স্বাবলম্বী করে তুলতে সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর জামষাইট গ্রামে ঝুমা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তার হাতে সেলাই মেশিনটি তুলে দেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা। পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং নিজের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আয় করার সুযোগ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

ঝুমা আক্তারের স্বামী মো. সাইফুল ইসলাম বনগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে। তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালানোর ক্ষেত্রে ঝুমা আক্তারের জন্য নতুন আয়ের পথ তৈরি করতে সেলাই মেশিনটি উপহার দেওয়া হয়।

সেলাই মেশিন পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ঝুমা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন। আমরা বিএনপির রাজনৈতিক পরিবারের হলেও জামায়াতে ইসলামী দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আমাকে একটি সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে। আমার তিনটি মেয়ে রয়েছে। এমন সহযোগিতা আমার পরিবারের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে দলীয় ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। জামায়াতে ইসলামীর এই মানবিক উদ্যোগের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’

সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, বনগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আবু ইছা, ইউনিয়ন প্রচার সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান, ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী এবং পেশাজীবী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রয়াত বিএনপি নেতা মো. সাইফুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও একজন অসহায় নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে জামায়াতে ইসলামীর এ উদ্যোগকে মানবিক সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেলাই মেশিনটি ব্যবহার করে ঝুমা আক্তার নিজের উপার্জনের পথ তৈরি করতে পারবেন এবং পরিবারের আর্থিক চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।