জাতীয়

শিশুদের টিকাদানে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

শিশুদের টিকাদানে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে দেশের সব শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কোনো শিশু যেন নিয়মিত টিকাদান থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতিটি বাড়ি ও মহল্লায় গিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশে ইপিআই ও ভিপিডি সার্ভেইলেন্সের যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনা ২০২৬-এর ফলাফল অবহিতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের টিকাদানের ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে হবে। শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে বসে দায়িত্ব পালন করলেই চলবে না; বরং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা পাওয়ার উপযোগী শিশুদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদেরও টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো শিশু যেন টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

টিকার গুণগত মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, টিকা সংরক্ষণ ও পরিবহনের প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত কোল্ড চেইন ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখতে সংরক্ষণ থেকে শুরু করে প্রয়োগ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। পাশাপাশি টিকার মান, কার্যকারিতা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নিয়মিত যাচাই করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ও সম্ভাব্য মহামারি থেকে সুরক্ষিত রাখতে টিকাদান কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই। শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতির কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৯ সাল থেকে দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শিশুদের বিভিন্ন মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ কর্মসূচির ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় তিনি বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণে গ্যাভি, ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার অবদানের কথা উল্লেখ করেন। শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ডা. রাজেশ নরওয়েল, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় ইপিআই ও ভ্যাকসিন-প্রতিরোধযোগ্য রোগের (ভিপিডি) নজরদারি কার্যক্রমের যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনার ফলাফল তুলে ধরা হয়।