সারাবিশ্ব
টানা ১১তম দিনে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ
টানা ১১তম দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ হামলার সময় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, টানা ১১তম দিনের হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান যে হুমকি সৃষ্টি করছে, তা দুর্বল করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানায়, ইরানের সামরিক অভিযান পরিচালনা কেন্দ্র, নৌঘাঁটি, যুদ্ধবিমান সংরক্ষণাগার, ড্রোন রাখার স্থাপনা এবং সামরিক রসদভান্ডারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
আল-জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে তেহরানের বিভিন্ন স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর শহরের বিভিন্ন এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে ফার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক শহরের আশপাশেও একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
ফার্সের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। প্রদেশটির উপ-গভর্নরের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায়ও হামলার খবর দিয়েছে ফার্স। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়, স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪০ মিনিটে হামলাটি চালানো হয়। হামলার লক্ষ্য ছিল শহরের বাইরে অবস্থিত একটি সামরিক স্থাপনা। তবে শহরের অভ্যন্তরে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র মূলত দক্ষিণ ইরান ও হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করলেও এবার তেহরান ও তাবরিজে হামলার ঘটনা সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।
এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে একাধিক হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তিনি আরও ৯০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান।
তবে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের এ প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী আইনপ্রণেতাদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন অসফ প্রশ্ন তুলে বলেন, আগে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করা হলেও এখন কেন নতুন করে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে’ খুব শিগগিরই জোরালো হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এর জবাবে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হলে পুরো অঞ্চলে পাল্টা হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে।