সারাবিশ্ব

রমজানে মাত্র ২৬ দিনে কোরআনের হাফেজ ১৪ বছরের কিশোর মুহান্নাদ


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম

রমজানে মাত্র ২৬ দিনে কোরআনের হাফেজ ১৪ বছরের কিশোর মুহান্নাদ
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কোরআন হিফজ বা মুখস্থ করা মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি অর্জন। বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ কোরআন হিফজ করলেও তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসাধারণ সাফল্যের মাধ্যমে বিশেষ পরিচিতি পান। তেমনই একজন গাজার কিশোর মুহান্নাদ আল-হুসনি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে অনাবাসিক পদ্ধতিতে মাত্র ২৬ দিনে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি।

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে পবিত্র রমজান মাসে এ কৃতিত্ব অর্জন করেন মুহান্নাদ। প্রতিদিন তিনি কোরআনের এক পারারও বেশি, অন্তত ২৫ পৃষ্ঠা মুখস্থ করতেন।

ওই বছর গাজার উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের আল-আওদাহ ইলাল্লাহ মসজিদে আয়োজিত ‘আন-নুখবা’ নামের একটি গ্রীষ্মকালীন হিফজ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর থেকে আসরের নামাজ পর্যন্ত চলত এ কর্মসূচির পাঠদান।

নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে মুহান্নাদ বলেন, খুব স্বাচ্ছন্দ্যেই তিনি পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছেন। এ সময় তাকে কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি। হিফজের দিনগুলো তার কাছে ছিল অত্যন্ত নিবিড় ও তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার উদ্দেশ্যেই তিনি কোরআন মুখস্থ করেছেন। কোরআন সবার জীবনবিধান উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেকের উচিত পবিত্র এ গ্রন্থকে আঁকড়ে ধরা, মুখস্থ করা এবং জীবনে এর শিক্ষা বাস্তবায়ন করা।

গাজার দারুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ অ্যাসোসিয়েশন পরিচালিত এ কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। এ ক্ষেত্রে পড়াশোনায় ভালো ফলাফল ও উত্তম চরিত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ওই এলাকার হিফজ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধায়ক ও আল-আওদাহ মসজিদের ইমাম শায়খ সুহাইব আল-কাহলুত জানান, সে বছর মসজিদে নিয়মিত হিফজ করা ১৫০ শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে ১৫ জনকে এ বিশেষ কর্মসূচির জন্য বাছাই করা হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, গাজায় হিফজ কার্যক্রম পরিচালনা করতে অর্থায়ন ও শিক্ষকদের সম্মানী প্রদানের ক্ষেত্রে নানা সংকট রয়েছে। দীর্ঘদিনের অবরোধের মধ্যেও স্থানীয় উদ্যোগ ও বিভিন্ন অনুদানের ওপর নির্ভর করে এসব কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

গাজার উত্তরাঞ্চলে সংস্থাটির পরিচালক ড. জামিল আদওয়ান জানান, পুরো উপত্যকাজুড়ে তাদের ৭৭৬টি হিফজকেন্দ্রে ২২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। হিফজ সম্পন্ন করার পর কোরআন আরও ভালোভাবে আয়ত্তে রাখতে নবীন হাফেজদের ‘হুফফাজ ফোরাম’-এ যুক্ত করা হয়। বর্তমানে এ ফোরামে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন ১ হাজার ৭০০-এর বেশি শিক্ষার্থী।

সূত্র: আলজাজিরা