সারাবিশ্ব

যুদ্ধ শেষ হলেও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে: ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৩৩ পিএম

যুদ্ধ শেষ হলেও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে: ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ভ্লাদিমির পুতিন এবং এলিনা ভালতোনেন। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের জবাবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধ শেষ হলেও প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কিংবা শান্তিচুক্তি নয়, বরং কঠিন শর্ত সাপেক্ষে ধীরে ধীরে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

সোমবার (২৫ আগস্ট) ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে আয়োজিত ‘বার্ষিক রাষ্ট্রদূত সম্মেলনে’ ভাষণ দেন ফিনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানেই তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইইউর কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেন।

ভালতোনেন বলেন, “যুদ্ধ শেষ হলেও চাপ অব্যাহত থাকবে। নিষেধাজ্ঞা শুধু যুদ্ধ থেমে যাওয়াতেই উঠে যাবে না। ইউরোপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ১৯তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা শিগগিরই কার্যকর হবে।”

তিনি আরও জানান, ফিনল্যান্ড নিজস্ব উদ্যোগে রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত রপ্তানি শুল্ক আরোপের বিষয়েও বিবেচনা করছে।

তবে ইইউর নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী নয় বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। বলেন, “আমরা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পক্ষে নই। তবে রাশিয়া যদি আচরণে পরিবর্তন আনে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে, তাহলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করা হবে।”

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। তার আগেই ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদের ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে মস্কোর উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। চলমান যুদ্ধ ইতোমধ্যে সাড়ে তিন বছর পার করেছে। প্রাণ গেছে দুই পক্ষের বহু মানুষের।

রাশিয়ার আগ্রাসনের পরপরই ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ব্যাংকিং, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও সম্পদ জব্দের মাধ্যমে রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে চেয়েছিল ইইউ, যদিও সেই লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

এদিকে যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধাবসানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান। তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইস্তাম্বুলে শান্তি সংলাপে বসেছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা।

চলতি আগস্টেই আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। তিন দিন পরেই হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ও ইইউ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। ট্রাম্প আশাবাদ প্রকাশ করেছেন, শিগগিরই যুদ্ধের অবসান হতে পারে।

তবে ইউরোপ এ নিয়ে এখনো সতর্ক। ফিনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন বলেন, “পুতিনের লক্ষ্য গোটা ইউক্রেন দখল করা। ইউরোপ কখনো এই অবৈধ উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সফল হতে দেবে না।”

তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধের পরও ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে ফিনল্যান্ড। একইসঙ্গে যদি ইউক্রেন প্রশাসনিক সংস্কার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর অগ্রগতি দেখাতে পারে, তবে তাকে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ দেওয়ার পথ উন্মুক্ত থাকবে।”