সারাবিশ্ব

ইরানের হামলায় লণ্ডভণ্ড ইসরায়েল


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩০ এএম

ইরানের হামলায় লণ্ডভণ্ড ইসরায়েল
ছবি: ড্রপ সাইট নিউজ

ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের স্বাস্থ্যখাত গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে। হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশটির বিভিন্ন হাসপাতাল এখন জরুরি ভিত্তিতে ভূগর্ভস্থ শেল্টার ও সুরক্ষিত চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তুলতে বেসরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর করছে।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বাজেট সংকোচনের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতালগুলোর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলে অনেক হাসপাতাল বাধ্য হয়ে স্টোররুম ও পার্কিং এলাকা অস্থায়ী ওয়ার্ড ও অপারেশন থিয়েটারে রূপান্তর করছে।

হাদেরার হিল্লেল-ইয়াফে হাসপাতাল-এর মহাপরিচালক মিকি দুডকিউইচ জানান, পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়াই চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে, যা চলমান হামলার কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সরকারি নিরীক্ষা সংস্থা প্রধান মাতানিয়াহু এঙ্গলম্যান জানিয়েছেন, দেশের প্রায় ৫৬ শতাংশ হাসপাতাল শয্যা এবং ৪১ শতাংশ অপারেশন থিয়েটারে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই। মানসিক হাসপাতাল ও জেরিয়াট্রিক সেন্টারগুলোর অবস্থা আরও নাজুক, যেখানে প্রায় ৭৫ শতাংশ শয্যাই অরক্ষিত।

এর আগে বিয়ারশেবার সোরোকা মেডিকেল সেন্টার-এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহু মানুষ আহত হন এবং কয়েকটি অপারেশন থিয়েটার ধ্বংস হয়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের হাসপাতালগুলোকে পূর্ণ নিরাপত্তার আওতায় আনতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, অথচ উল্টো স্বাস্থ্য খাতের বাজেট কমানো হয়েছে।

হাইফার রামবাম হেলথ কেয়ার ক্যাম্পাস ইতোমধ্যে তাদের ভূগর্ভস্থ পার্কিং এলাকাকে আধুনিক চিকিৎসা ইউনিটে রূপান্তর করেছে, যেখানে জরুরি অবস্থায় শত শত রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব। তবে অনেক হাসপাতাল অর্থের অভাবে একই ধরনের প্রকল্প শেষ করতে পারছে না।

জেরুজালেমের শ্যারে জেদেক মেডিকেল সেন্টার-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তহবিল সংগ্রহে নেমেছে। স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু অনুদান পাওয়া গেলেও সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

চলমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলো বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্টোরেজ স্পেসকে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধায় রূপান্তরের মতো উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই অস্থায়ী সমাধান রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।