সারাবিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র নয়, ভারতের মতো ছোট একটা দেশও আমাদের বন্ধু: নেতানিয়াহু


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র নয়, ভারতের মতো ছোট একটা দেশও আমাদের বন্ধু: নেতানিয়াহু
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রই ইসরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র—এমন মন্তব্যের সঙ্গে একমত নন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারতের মতো আরও কয়েকটি দেশের সমর্থনও ইসরায়েল পেয়ে থাকে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাদের আরও কিছু বন্ধু আছে, যেমন ভারত নামের ছোট একটা দেশ। তাদের জনসংখ্যা ১৪০ কোটির বেশি, আর সেখানে আমরা অসাধারণ সমর্থন পাই।”

লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো থাকলেও সব বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত নন। তার ভাষায়, “তার সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। তবে তার সব বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত—এমন নয়।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে—এমন ধারণাও নাকচ করেন নেতানিয়াহু। তিনি ট্রাম্পকে ‘হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের পাওয়া সবচেয়ে বড় বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এর আগে জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে হওয়া শান্তি চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, কয়েক মাসের সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং আঞ্চলিক আলোচনার ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যেই এই চুক্তি হয়েছে।

তিনি ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন। ভ্যান্সের মতে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থে সরবরাহ করা হয়েছে।

ভ্যান্স আরও বলেন, ইসরায়েলের সমস্যা ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প নন। বরং কেউ যদি এমনটা মনে করেন, তবে তাদের বর্তমান বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলারও সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, এসব হামলা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংবেদনশীল আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

তিনি বলেন, “ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তবে অন্য সবার মতো ইসরায়েলকেও এমন শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্মান করতে হবে, যা পুরো অঞ্চলের জন্যই ভালো।”

এছাড়া কূটনৈতিক অগ্রগতির পরপরই সহিংসতা শুরু হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হতাশ হন বলেও উল্লেখ করেন ভ্যান্স। বৈরুতের একটি বেসামরিক এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানিকে তিনি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতির পক্ষে সাফাই গেয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ওই অঞ্চলের কিছু খ্রিষ্টান অধ্যুষিত গ্রাম ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, কারণ তারা হিজবুল্লাহর উগ্রপন্থীদের হাত থেকে সুরক্ষা চায়।

নেতানিয়াহু বলেন, “আপনি যদি শান্তি চান, তাহলে যারা আপনাকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করার সক্ষমতাও থাকতে হবে।”